জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গ্যাসের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে। দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত জামালপুর-১ এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এখন নতুন আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে কূপ দুটি খননের জন্য স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ করেছে। এখন কেবল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই এই প্রকল্প দুটির অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে এবং এরপরই দ্রুত মাঠপর্যায়ে খননকাজ শুরু হবে।
বাপেক্সের পরিকল্পনা ও আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, নতুন কূপ দুটির নাম দেওয়া হয়েছে জামালপুর-২ ও জামালপুর নর্থ-১। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এই নতুন কূপ দুটির মধ্যে একটিতে মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং অন্যটিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতিটি কূপ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে অবস্থিত জামালপুর-১ কূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এই কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকা এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকাকে পরবর্তী দুটি কূপের জন্য স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামালপুর-১ কূপের ফিল্ড ইনচার্জ বাইজিদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, এই কূপ থেকে প্রাপ্ত গ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জামালপুর-১ কূপে প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে, যার মধ্যে উত্তোলনের উপযোগী মজুত ৭২০ কোটি ঘনফুট। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে প্রায় পাঁচ বছর এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিচালক মোজাম্মেল হক জানান, নতুন দুটি কূপের বাণিজ্যিক উপস্থিতি ও মজুতের পরিমাণ যাচাইয়ের পর তিনটি কূপ থেকেই একসঙ্গে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নতুন কূপ দুটির জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা জামালপুর-১ কূপটিতে ২০২৫ সালের ৩১ মে অগ্নি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষামূলক উত্তোলন শুরু হয়েছিল। কূপটির ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৪ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

