পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক সেবনরত অবস্থায় উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের এক নেতাকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই অভিযানে তার বাড়ির ভাড়াটিয়াকেও ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের ‘খ’ সার্কেল (ঈশ্বরদী)-এর একটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
আটককৃতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আলম এবং তার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আব্দুর রাজ্জাক। অভিযান পরিচালনাকারী দলের প্রধান উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শের আলম জানান, যুক্তিতলা এলাকায় মাহফুজ আলমের বাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে তার পরিহিত প্যান্টের পকেটে থাকা সিগারেটের প্যাকেট তল্লাশি করে ৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর মাহফুজ আলমের শয়নকক্ষে অভিযান চালিয়ে তাকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক মাহফুজ আলমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
দলীয় পদের বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতীদলের সভাপতি নাফিস আহমেদ বলেন, মাদকসহ আটকের বিষয়টি জানার পরপরই মাহফুজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করা হয়েছে। অচিরেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্যাপেন্টাডল মূলত ব্যথানাশক ওষুধ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদক হিসেবে এর অপব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় এই ট্যাবলেটের অবৈধ বেচাকেনা ও সেবন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ পেতে দেখা গেছে।

