গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক নারী ও এক শিশুসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনকে চিকিৎসার জন্য নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যারা মূলত দক্ষিণ ও মধ্য খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণের শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, খান ইউনিসের দক্ষিণে এবং রাফাহের উত্তরে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত তাঁবু লক্ষ্য করেও ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। গাজা সিটির পূর্ব দিকে আল-নাফাক সড়কে ইসরায়েলি হামলায় আরও একজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পূর্ব আল-তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যান এবং কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরবাড়ি ও তাঁবু লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া অঞ্চলের শেখ জায়েদ সিটির কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী কামানের গোলাবর্ষণ করেছে এবং পার্শ্ববর্তী ইসরায়েলি অবস্থান থেকে ভারী গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া মধ্য গাজার বুরেজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকেও ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ও কামানের গোলা ছুড়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক লঙ্ঘনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১,২৫৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,১৩১ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,৭৪,০০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

