মন্ত্রী-এমপিদের সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মানবেন না জামায়াত আমির

মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিট সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির সাথে সাথে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথা ভাবছে সংশ্লিষ্ট মহল। তিনি একে অসঙ্গত ও অন্যায় সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সমর্থন করে না। তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে সংসদে গিয়েছি, বেতনের বিনিময়ে এমপি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমাদের নেই। ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হলে তখন সবাই অংশীদার হতে পারে, কিন্তু তার আগে নয়। এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তারা অবশ্যই এর প্রতিবাদ করবেন এবং বাধা দেবেন।

দেশের বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে বলে আশা করি। তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি একটি নেয়নি, সেখান থেকেই সংকট শুরু হয়। নির্বাচনের আগে সবাই একই অবস্থানে থাকলেও পরে বিএনপি সরে যায়, যা তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও তারা শোনেননি।

সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ সীমিত থাকার অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি তেল, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ এবং দ্রব্যমূল্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও সরকার তা আলোচনায় আনতে দেয়নি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টস শিল্প ধুঁকছে এবং অর্ডার ৫০ ভাগ বাতিল হচ্ছে, অথচ সরকার বিরোধী দলের দেওয়া টেকনিক্যাল টিমের পরামর্শ বা সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, সরকার এক বছরের মধ্যে এক-দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বললেও বাস্তবে কর্মসংস্থান হারাতে শুরু করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, তারা সংসদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা বা ফাইল ছোড়ার মতো অসভ্য কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী নন। তারা নীতি, আইন ও মানবিকতা বজায় রেখে জনগণের জন্য কাজ করতে চান। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তারা রক্ষা করেছেন। এছাড়া মাসিক বেতন নিতে বাধ্য হলেও তা একটি প্রতিষ্ঠানে দান করার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি দল হোক বা বিরোধী দল, সবাই বলেছেন তারা সেবক হতে চান, তাই শাসকের মানসিকতা পরিহার করে সেবকের মানসিকতা থাকতে হবে।

স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং এটি ঠিক থাকলে অন্য স্তম্ভগুলোও শক্তিশালী থাকে। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যম অদৃশ্য চাপের মুখে আছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, মিডিয়া মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে সংবাদপত্র পরিচালনা সহজ হয় এবং সাংবাদিকদের পলিসি লেভেলে থাকতে হবে। তিনি মিডিয়াকে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের সাতটি জাতীয় দাবি জনগণের স্বার্থে আনা হয়েছে। লংমার্চ বানচালে ককটেল বিস্ফোরণ বা গাড়িতে আগুনের ঘটনার দায় তাদের নয় বরং যারা কর্মসূচি নস্যাৎ করতে চায়, তাদেরই। মতবিনিময় সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এটিএম মা‘ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সংসদে ইচ্ছা করলেই যেকোন বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারি না। একাত্তর বিধিতে নোটিশ দিলে দুই অথবা এক মিনিটের আলোচনা হয়। বিশেষ কোন বিষয়ে কথা বলতে ৬২ বা ৬৮ ধারায় নোটিশ দিতে হয়। আমরা ৬২ ধারায় দুইটা নোটিশ আলোচনা করেছি। একটা আমাদের পক্ষ থেকে, আরেকটা সরকারি দলের পক্ষ থেকে হয়েছে। এরপরে জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জ্বালানি তেল সম্প

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রংপুরের আঞ্চলিক একটি দাবির বাইরে আমাদের জাতীয় দাবি সাতটি। এটির একটিও দলীয় দাবি নয়। আমরা জনগণের স্বার্থে এসব দাবি নিয়ে এসেছি। আমরা লংমার্চে ৫ হাজার গাড়ি নিয়ে যেতে পারতাম, কিন্তু আমরা তা না করে প্রতীকী হিসেবে কয়েকশ গাড়ি নিয়েছি। এ গাড়িগুলো তো রাস্

শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তিন কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনএআই তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানডে দলে ফিরলেন আলি খান সিয়াটলের ফেডারেল প্রসিকিউটরকে বরখাস্তের নির্দেশ আটকে দিলেন বিচারক ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর নতুন নাটক ‘মায়ারে’ নিয়ে পর্দায় ফিরলেন আরশ-সুনেরাহ মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে অবসরে গ্লুচেস্টারশায়ারের পেসার ক্রেইগ মাইলস ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি কাপ: মুকেশের পাঁচ উইকেট সত্ত্বেও এগিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ইসরায়েলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তিন কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনএআই তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানডে দলে ফিরলেন আলি খান সিয়াটলের ফেডারেল প্রসিকিউটরকে বরখাস্তের নির্দেশ আটকে দিলেন বিচারক ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর নতুন নাটক ‘মায়ারে’ নিয়ে পর্দায় ফিরলেন আরশ-সুনেরাহ মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে অবসরে গ্লুচেস্টারশায়ারের পেসার ক্রেইগ মাইলস ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি কাপ: মুকেশের পাঁচ উইকেট সত্ত্বেও এগিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ইসরায়েলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত ট্রাম্পের