মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যেকোনো পরিকল্পনা কার্যত ত্যাগ করেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে এটি তার প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউজ ত্যাগের সময় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
ট্রাম্প আরও জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে পর্যায়ে বেড়ে গিয়েছিল, বর্তমানে তা কমে এসেছে। তিনি বলেন, 'তেলের দাম কমছে। বর্তমানে দাম বাইডেন প্রশাসনের আমলের চেয়েও কম। অথচ তারা (বাইডেন প্রশাসন) ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে কিছুই করেনি। প্রসঙ্গত, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পরিকল্পনা কার্যত ত্যাগ করেছে।'
অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে যে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে তারা তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করবে না।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কাতারে দুটি অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে একটি ব্যাটারি গত মাসে সৌদি আরবের প্রধান তেল স্থাপনা সুরক্ষার জন্য পাঠানো হয় এবং অন্যটি কাতারে প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ শুরু করে, তবে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো যেন সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, ওহাইওতে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য একটি কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়েছে। দেশজুড়ে রিপাবলিকান সিনেটররা রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন, কারণ জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ইরান যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন কমে আসছে।

