ওয়াশিংটনের ঐতিহ্যবাহী কেনেডি সেন্টার বর্তমানে ভয়াবহ আর্থিক ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর্থিক ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার কারণে কেনেডি সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ আগামী মঙ্গলবার মূল ভবনটি বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভোটাভুটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানো সেন্টারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং নতুন করে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কেনেডি সেন্টারের ট্রাস্টিরা ভবনের বাইরের অংশে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ভবনটির সংস্কার কাজে ট্রাম্পের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তার নাম ব্যবহারের জন্য ১০টি ভিন্ন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে নিজেকে এই সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। গত ডিসেম্বরে বোর্ড ভবনটির নাম পরিবর্তন করে 'ট্রাম্প-কেনেডি' সেন্টার রাখার পক্ষে ভোট দিলেও আইনি জটিলতায় তা আটকে যায়। কেনেডি সেন্টারটি প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মরণে প্রতিষ্ঠিত, যিনি ১৯৬৩ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার আগে নাগরিক অধিকারের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন।
বর্তমানে কেনেডি সেন্টারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কনসার্ট বাতিল হওয়ার পাশাপাশি কোভিড-পরবর্তী সময়ে টিকিট বিক্রি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে ২২০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটের বিপরীতে মাত্র ১২৪ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, ফলে ব্যাপক কাটছাঁট করার পরও প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়ে গেছে। এছাড়া, গত মাসে শক্তিশালী ঝড়ে গ্র্যান্ড ফয়েরের প্রায় ৬০ ফুট ওপর থেকে চার-বাই-পাঁচ ফুটের একটি সিলিংয়ের প্লাস্টার খসে পড়লে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে কেনেডি সেন্টার সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মুখপাত্র রোমা দারাভি এক বিবৃতিতে আগের নেতৃত্বের আমলে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে এই সংকটের জন্য দায়ী করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, ভবনের সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি নতুন দাতাদের আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে।

