জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের হাতে আসা নথিপত্র থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া কেনেডি সেন্টারের বর্তমান নেতৃত্ব এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ভবনের সামনের অংশে প্রেসিডেন্টের নাম পুনরায় স্থাপন করা না হলে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত আর্থিক ধসের মুখে পড়বে। এই সতর্কবার্তাটি ৫৭ পৃষ্ঠার একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের বিশেষ সভার আগে সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কর্মীদের বেতন প্রদান বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটাতে সক্ষম হবে না। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজে এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের আশ্বাস দিয়েছেন। টাইমস আরও জানায়, সেন্টারের প্রধান সাইনেজের নিচে ট্রাম্পের নাম বসানোর অন্তত ১০টি ভিন্ন বিকল্পের কথা ওই খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই ধরনের স্বীকৃতির ব্যবস্থা না থাকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূল ভবন সংস্কারের তদারকি করবেন না এবং প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক উদ্ধারে নেতৃত্ব দেবেন না। ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই ৫৭ পৃষ্ঠার প্যাকেটের বিষয়টি সামনে আনে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কেনেডি সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে নিজেকে কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। যদিও গত বছরের ডিসেম্বরে বোর্ড ট্রাম্পের নাম ভবনে যুক্ত করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক সেই সাইনেজ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
এরপর আগস্ট মাসে বোর্ড পুনরায় নাম স্থাপনের পক্ষে ভোট দেয় এবং ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ের একটি দুই বছর মেয়াদী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে নাম স্থাপনের বিষয়টি বর্তমানে আইনি জটিলতায় আটকা পড়ে আছে এবং কার্যকর হয়নি। যদিও সরকারি আইনজীবীদের দাবি, নতুন সাইনেজ মূলত ভবন সংস্কারে ট্রাম্পের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেবে, নাম পরিবর্তন নয়। তবে ফেডারেল বিচারক আগেই রায় দিয়েছেন যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সেন্টারের আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

