প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত কেনেডি সেন্টারের বোর্ড একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটি অবিলম্বে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্কার কাজের দোহাই দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি ও আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। বোর্ডের একাধিক সদস্য এবং ট্রাম্পের মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, জরুরি সংস্কার না করা হলে এই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ও কাঠামোগতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
মঙ্গলবার বোর্ডের এক সভায় এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এক সূত্র। জানা গেছে, সভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এবং বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক যুক্ত ছিলেন। উল্লেখ্য, লুটনিকের স্ত্রী অ্যালিসন কেনেডি সেন্টারের বোর্ড সদস্য। এই সভায় উপস্থিত ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ও ওহাইওর প্রতিনিধি জয়েস বিটি অভিযোগ করেছেন যে, ভোটগ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে মৌখিকভাবে অপমান করেছেন। বিটি জানান, ট্রাম্পের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট আদালতের রায়ে হারার ক্ষোভ থেকেই এমন আচরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমি শিক্ষিত, বুদ্ধিমান এবং আমি কেবল আইনের শাসনের খাতিরেই এই বিরোধ করছি।
কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের ইস্যুটিও এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। গত আগস্টে বোর্ড ভবনের গায়ে 'রেনোভেটেড অ্যান্ড রেস্টোর্ড বাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প' খোদাই করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্রিস্টোফার কুপার এই উদ্যোগকে অবৈধ ঘোষণা করে জানান, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ট্রাম্প বা অন্য কারো স্মৃতিস্মারক সেখানে বসানো যাবে না। এর আগেও গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি আদালত আটকে দিয়েছিল। বর্তমানে ভবনের বাইরের অংশে একটি ত্রিপল দিয়ে কেনেডি সেন্টারের নাম ঢেকে রাখা হয়েছে।
বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে, কেনেডি সেন্টারের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ এবং এটি আর্থিক সংকটের মুখে রয়েছে, যার ফলে সংস্কার কাজ অনিবার্য। গত বছর কংগ্রেস এই প্রকল্পের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছিল। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে জানিয়েছেন, আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু হবে না। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে সচল রাখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১৭ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছেন, যদিও এই অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল এই বিতর্কে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, আর জয়েস বিটির মতো ব্যক্তিরা এর বিরোধিতা করছেন। এদিকে, কেনেডির ভাতিজি মারিয়া শ্রাইভার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা করে লিখেছেন, এই ব্যক্তি কেনেডি সেন্টারের সাথে নিজের নাম স্থায়ীভাবে জুড়ে না দেওয়া পর্যন্ত থামবেন না।

