ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী হওয়ার সময় চার সন্তানকে নিয়ে বিমানে ভ্রমণ ছিল এক মায়ের জন্য চরম উদ্বেগের বিষয়। সন্তানদের বয়স তখন সাত বছরের নিচে। ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন এবং বিমানে ওঠার সময় তার মনে হচ্ছিল, অন্য যাত্রীরা হয়তো তাকে দেখে বিরক্ত হচ্ছেন। তার আশঙ্কা ছিল যে, চার সন্তানকে নিয়ে তার পাশে বসতে কেউ আগ্রহী হবে না।
বিমানে ওঠার পর নিরাপত্তার কারণে আসন বিন্যাস নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। মা চেয়েছিলেন জানালা ও মাঝের সারিতে বসে সন্তানদের ওপর নজর রাখতে, কিন্তু বিমান সেবিকার নির্দেশে তাকে পরিকল্পনা বদলাতে হয়। ফলে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে মাঝের সারির একটি আসনে একা বসতে হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টার সেই দীর্ঘ যাত্রায় ছেলেটির পাশে বসেছিলেন এক অপরিচিত ব্যক্তি।
সেই সহযাত্রী ছেলেটির পাশে বসার কারণে কোনো বিরক্তি প্রকাশ করেননি, যা ছিল প্রথম ধাপের এক বড় স্বস্তি। দীর্ঘ যাত্রার এক পর্যায়ে বিমানের কেবিনের বাতি নিভিয়ে দেওয়া হলে মা ও তার অন্য তিন সন্তান ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙার পর মা দেখেন তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ঘুমিয়ে পড়েছে এবং পাশে বসা সেই অপরিচিত ব্যক্তি পরম মমতায় ছেলেটির গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন।
মা মনে করেন, সেই সহযাত্রী হয়তো জানতেন না যে মা তাকে দেখছেন। বিমান থেকে নামার পর সেই ব্যক্তির সাথে তার আর কখনো দেখা হয়নি, কিন্তু সেই মুহূর্তের মমতা ও যত্নের স্মৃতি ২০ বছর পরেও তার কাছে জাদুকরী হয়ে আছে।

