বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে হোয়াইট হাউসের কাছে সন্দেহজনক আচরণের সময় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সিক্রেট সার্ভিস। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ধৃত ব্যক্তির নাম রনি ইয়োরড্রিক্স গুয়ানিপা চিরিনোস, যিনি ভেনেজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে অবস্থান করছেন।
সিকিউরিটি কর্মকর্তারা কন্সটিটিউশন অ্যাভিনিউয়ে পার্ক করা একটি গাড়িতে তাকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তল্লাশি চালান। ওই এলাকার ১৬০০ ব্লক, যা এলিফসের কাছাকাছি অবস্থিত, সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরার মুখে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তার মাথায় শোনা কণ্ঠস্বর তাকে ওয়াশিংটনে এসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধৃতের ব্যবহৃত গাড়িটি চুরি করা ছিল। গাড়ি তল্লাশি করে একটি রাইফেলসহ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রচুর পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জব্দ করা অস্ত্রগুলোর একটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন পিস্তল বহন, চুরি করা গাড়ির ব্যবহার, অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন এক বিবৃতিতে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি ভারী অস্ত্রসহ এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার ফলে একটি সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর বর্ডার প্যাট্রোল তাকে আটক করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে এক নির্বাচনী জনসভায় তার ওপর গুলি চালানো হয়। এছাড়া এ বছরের এপ্রিলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারের সময় ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে এক বন্দুকধারী নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশ করলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা আহত হন।

