২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে এক তরুণ পর্তুগিজ ফুটবলারের পা পড়েছিল, যা পরবর্তীতে ফুটবল ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সেই ঐতিহাসিক অভিষেকের বার্ষিকী এবার বিশেষভাবে উদযাপন করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে রেড ডেভিলরা।
২০ বারের ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে রোনালদোর আইকনিক ‘৭’ নম্বর জার্সির একটি ছবি শেয়ার করেছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, "১৬.০৮.২০০৩, বাকিটা ইতিহাস।" ২০০৩ সালে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং সিপি থেকে মাত্র ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে তরুণ রোনালদোকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিয়ে এসেছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। তৎকালীন সময়ে ইংল্যান্ডে কোনো কিশোর ফুটবলারের জন্য এটিই ছিল সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। পরবর্তীতে এটি ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দলবদল হিসেবে প্রমাণিত হয়। তিনি কেবল এই ক্লাবেরই নন, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুই মেয়াদে খেলেছেন রোনালদো। প্রথম দফায় ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত খেলার পর, ২০২১ সালে তিনি আবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফিরে আসেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ১৮ মাস কাটানোর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এক বিতর্কিত বিদায়ের মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে যোগ দেন। রেড ডেভিলদের হয়ে দুই মেয়াদে ৩৪৬টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ১৪৫টি গোল করার পাশাপাশি ৭৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ক্লাবের হয়ে জিতেছেন তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ মোট নয়টি বড় ট্রফি।
এদিকে রোনালদোর সাবেক সতীর্থ প্যাট্রিস এভরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এই পর্তুগিজ তারকা আরও কতদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে রোনালদোর সাথে তিন মৌসুম কাটিয়েছেন এই ফরাসি ডিফেন্ডার। তারা একসঙ্গে ১২১ বার মাঠে নেমেছেন এবং যৌথভাবে দুটি গোলে অবদান রেখেছেন। সাবেক জুভেন্টাস তারকার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও ফুটবল নিয়ে আবেগকে একটি ‘সুন্দর রোগ’ বা ‘নেশা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এভরা। তার বিশ্বাস, রোনালদো আরও অন্তত এক বা দুই বছর খেলা চালিয়ে যাবেন।
এভরা বলেন, "তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং আবেগ অনন্য। ক্রিস্টিয়ানোর চেয়ে বেশি পেশাদার কোনো ফুটবলারের সাথে আমি কখনো খেলিনি। আমাদের অনুশীলন শুরু হতো সকাল ১০টায়, কিন্তু সে সকাল ৮টাতেই মাঠে চলে আসত এবং সবকিছু অনুশীলন করা শুরু করে দিত। আমার মনে হয় ক্রিস্টিয়ানোর একটি সুন্দর রোগ আছে! সে আসলে কঠোর পরিশ্রম করার এবং নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার নেশায় আসক্ত। আর এ কারণেই তার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার দেখে আমি মোটেও অবাক নই। সে আরও এক বা দুই বছর অনায়াসেই খেলতে পারবে এবং এতে আমি বিন্দুমাত্র অবাক হব না।"
৪১ বছর বয়সেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো শারীরিকভাবে দারুণ ফিট এবং ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড ২৩৩টি ম্যাচ খেলে ১৪৬টি গোল করেছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড রোনালদো এ পর্যন্ত ৯৭৬টি গোল করেছেন। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ২৪টি গোল।

