ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬ ইউরোপের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফ্রান্সের সাপ্তাহিক পত্রিকা 'লে'প্রেস' ইউরোপের বর্তমান ও সাবেক ৬০ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং সিআইএ ও মোসাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গোপন জরিপ পরিচালনা করে। এতে ২৫১ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে এমআই৬, যেখানে ১৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের ডিজিএসই।
এই জরিপের ফলাফল নিয়ে লে'প্রেসের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আলেকজান্দ্রা সাভিয়ানা বলেন, এমআই৬-এর জয়ের ব্যবধানটি বেশ বড়। তিনি জানান, এই জরিপে ১৭ জন বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে। গোয়েন্দা মহলে সাধারণত এমআই৬-এর প্রতি এক ধরণের মুগ্ধতা কাজ করে। লন্ডনের ভক্সহলে অবস্থিত সংস্থাটির সদর দপ্তরে প্রধান ব্লেইজ মেট্রেওয়েলি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, মিত্র ও প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে তাদের ভাবমূর্তি নিয়ে সংস্থাটি বেশ সন্তুষ্ট।
সাভিয়ানার মতে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উচ্চপদস্থ মানব উৎস বা হিউম্যান সোর্স তৈরি এবং তাদের পরিচালনা করার দক্ষতাই এমআই৬-এর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সংস্থাটির ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার সম্পদ সংগ্রহ, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কেজিবি'র ওলেগ গর্ডিয়েভস্কি। তিনি ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৮০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও স্যাটেলাইটের এই যুগেও তারা মানব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। একজন সাবেক ফরাসি গোয়েন্দা জানান, ব্রিটিশরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিশ্বাসী এবং তারা ১০ বছর সময় নিয়েও সোর্সদের ওপর বাজি ধরতে পারে।
তবে এমআই৬-এর এই সাফল্য নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অতীতে ২০০৩ ও ২০০৮ সালের প্রেক্ষাপটে ইরাক যুদ্ধের সময় সদ্দাম হোসেনের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র থাকার বিষয়ে ভুল তথ্য প্রদান সংস্থাটির জন্য একটি লজ্জাজনক অধ্যায় ছিল, যেখানে ৪৫ মিনিটের মধ্যে হামলার মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল। এছাড়া আলিরেজা আকবরির মতো এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার ঘটনাও তাদের ইতিহাসে রয়েছে; যিনি ২০১৯ সালে ইরানে গ্রেপ্তার হন এবং ২০২৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের আগে রাশিয়া আক্রমণের সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
গোয়েন্দা বিশ্বে এমআই৬-এর এই প্রভাবের পেছনে জেমস বন্ডের মতো কাল্পনিক চরিত্রের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক প্রভাবকেও অনেকে কারণ হিসেবে দেখেন। সাবেক এক এমআই৬ প্রধানের মতে, কোনো নতুন সোর্সকে নিয়োগের ক্ষেত্রে একজন ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তার প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়, তা অন্য অনেক দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। সিআইএ-সহ ফাইভ আইজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ইউরোপীয় গোয়েন্দা মহলে এমআই৬-এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

