যুক্তরাজ্যের ক্ল্যাকটন উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ এই আসনে জয়লাভের পথে রয়েছেন। তবে তার এই জয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, কারণ তিনি এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছেন যেখানে মূলধারার কোনো দল প্রার্থী দেয়নি।
৬২ বছর বয়সী নাইজেল ফারাজ ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে লড়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এছাড়া ছোট কয়েকটি দলের পাশাপাশি ‘অফিসিয়াল মনস্টার রেভিং লুনি’ পার্টির তিনজন প্রার্থীও তার বিপক্ষে ছিলেন। এই উপনির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি রেকর্ড। এর আগে ২০০৮ সালের জুলাই মাসে হাল্টেমপ্রাইস অ্যান্ড হাউডেন উপনির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী ছিল, যেখানে কনজারভেটিভ এমপি ডেভিড ডেভিস পদত্যাগ করে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন।
নির্বাচনের ফলাফল শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ঘোষণার কথা রয়েছে। ফারাজের এই জয়কে রিফর্ম ইউকে তাদের নীতি ও সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করলেও, সমালোচকরা ভোটার উপস্থিতি এবং জয়ের ব্যবধানের দিকে নজর রাখছেন। ফারাজ এই উপনির্বাচনটিকে ‘জনগণ বনাম এস্টাবলিশমেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।
ফারাজের এই জয়কে ঘিরে আইনি ও নৈতিক বিতর্কও রয়েছে। তিনি বর্তমানে সংসদীয় স্ট্যান্ডার্ডস ওয়াচডগের তদন্তের মুখে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ার ক্রিস্টোফার হারবোর্নের কাছ থেকে পাওয়া ৫ মিলিয়ন পাউন্ডসহ বিভিন্ন উপহার ও অনুদানের তথ্য গোপন করেছেন। ফারাজ দাবি করেছেন, এই অর্থ তিনি রিফর্ম ইউকের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নিরাপত্তার জন্য পেয়েছেন এবং এটি ব্রেক্সিটের পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের বিষয়টি ফারাজের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, তবে তার পুনঃনির্বাচনের পর তা পুনরায় শুরু হবে। যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং হাউস অব কমন্স থেকে বহিষ্কৃত হন, তবে ক্ল্যাকটনে আবারও উপনির্বাচন হতে পারে, যেখানে মূলধারার দলগুলো অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, ক্রিপ্টো জুয়াড়ি ও দণ্ডিত প্রতারক জর্জ কট্রেলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। সানডে টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কট্রেলের সহায়তার মধ্যে নিরাপত্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যারা ফারাজের নির্বাচিত হওয়ার আগের বছর তার অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেছিলেন।

