ওজেম্পিক ফেসের কথা অনেকেরই শোনা, তবে এবার চিকিৎসকরা নতুন এক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করছেন যা হলো ‘টেম্পোরাল হলোয়িং’ বা মন্দিরের অংশের গর্ত তৈরি। ওজেম্পিক, ওয়েগোভি এবং মাউঞ্জারোর মতো জিএলপি-১ গোত্রের ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যে এই সমস্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্লাস্টিক সার্জনরা। দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার ফলে মুখমণ্ডলের এই অংশে ভলিউম বা গভীরতা কমে যায়, যা চেহারাকে বয়স্ক ও অসুস্থ দেখায়।
বেভারলি হিলসের প্লাস্টিক সার্জন ডা. টেরি ডাব্রো জানান, অনেক রোগীই তাদের কাছে আসছেন এই অভিযোগ নিয়ে যে, তারা হঠাৎ করেই নিজেদের চেহারা বয়স্ক বা বিধ্বস্ত মনে করছেন। ডাব্রোর মতে, টেম্পোরাল হলোয়িং বা মন্দিরের অংশের ক্ষয় বার্ধক্য, অসুস্থতা এবং পানিশূন্যতার একটি বড় লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অংশটি বেশ পূর্ণ থাকে, যা তারুণ্যের প্রতীক। ওজন কমার ক্ষেত্রে এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনটিই চেহারাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে।
তবে এই সমস্যার সমাধানে তাড়াহুড়ো করে ফিলারের ব্যবহার বা অতিরিক্ত চর্বি প্রবেশ করানোর বিষয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্লেকম্যান প্লাস্টিক সার্জারির ডা. কৃষ্ণা ব্যাস জানান, অতিরিক্ত ফিলার ব্যবহারের ফলে নান্দনিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। টেম্পোরাল হলোয়িং চিকিৎসায় সাধারণত ফিলার ব্যবহার করা হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাট ট্রান্সফারের মতো অস্ত্রোপচারও করা হয়।
ডা. ডাব্রো জানান, মন্দিরের অংশটি রক্তনালীতে পূর্ণ থাকায় এটি ফিলারের জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। ভুল প্রক্রিয়ায় ফিলার ব্যবহার করলে অন্ধত্বের মতো জটিল ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো মেডিকেল ইন্টারভেনশনের জন্য অনুমোদিত পেশাদার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন ধীরে ধীরে কমালে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। যারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই সমস্যা হয় না। ডা. ডাব্রোর মতে, যারা অনলাইনে ইনফ্লুয়েন্সার বা অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের পরামর্শে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন করছেন বা ডোজ বাড়িয়ে দিচ্ছেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ওষুধটি মূলত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও খাবারের প্রতি আসক্তি কমানোর জন্য তৈরি, কিন্তু সঠিক নিয়ম না মানায় রোগীরা অপ্রত্যাশিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
