পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা যেন নতুন মোড় নিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য দল ঘোষণার পর এবার নির্বাচক কমিটির সদস্যদের শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে বোর্ড। ইমাম-উল-হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দলে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ওপর সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে পিসিবি।
আকিব জাভেদ, মিসবাহ-উল-হক, সরফরাজ আহমেদ এবং আসাদ শফিকের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচক কমিটিকে এই নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিসিবির এক মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার সুমায়ের আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, এই দুই খেলোয়াড়কে নির্বাচনের ভিত্তি, পারফরম্যান্সের বিচার-বিশ্লেষণ এবং নির্বাচক প্রক্রিয়ায় আর কী কী বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে। এর আগে লর্ডসে ইংল্যান্ডের কাছে ১৯৪ রানে হারের পর পিসিবি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। দলের সাত খেলোয়াড়কে সফর থেকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদসহ বেশ কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে মিসবাহ-উল-হকের পদত্যাগের খবর শোনা গেলেও তা এখনো গৃহীত হয়নি বলে জানা গেছে।
ক্রিকেট প্রশাসনের ইতিহাসে এভাবে নির্বাচকদের বিচার-বিবেচনাকে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করার ঘটনা বিরল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেটে খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথা ভাঙার ইতিহাস নতুন নয়। অতীতে ইমরান খান নির্বাচকদের মতামত উপেক্ষা করে ইনজামাম-উল-হককে দলে নেওয়ার জন্য জোর করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরে আসা সাত খেলোয়াড়ের মধ্যে রয়েছেন ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা, আলী ওসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ ওয়াইস জাফর এবং খুররম শাহজাদ। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য তাদের পরিবর্তে নতুন খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের এই নোটিশকে অত্যন্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

