পোল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল 'ল অ্যান্ড জাস্টিস' (Law and Justice) দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র মতপার্থক্যের জেরে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে। শুক্রবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অন্তত ৩০ জন আইনপ্রণেতা কার্যকরভাবে দল থেকে বেরিয়ে গেছেন।
রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী এই দলটি ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পোল্যান্ড শাসন করেছে। সেই সময় তারা বিচার বিভাগে অনুগত বিচারক নিয়োগ এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী সরকার সেই নীতিগুলো পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে ল অ্যান্ড জাস্টিসের প্রতি সহানুভূতিশীল দুই প্রেসিডেন্ট বারবার এসব প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।
তবে আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ল অ্যান্ড জাস্টিসের অভ্যন্তরে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দলের ডানপন্থী অন্যান্য দলগুলোর কাছ থেকে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলের কৌশল নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের নেতা জারোস্লাভ কাচিনস্কি এবং ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মাতেউশ মোরাভিয়েৎস্কির মধ্যে এই বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। মোরাভিয়েৎস্কি দলের একটি অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী অংশের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং গত এপ্রিল মাসে তিনি 'ডেভেলপমেন্ট প্লাস' নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তুলেছেন, যা দলের ভেতরে অনেকের কাছেই সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
দলের আইনপ্রণেতাদের অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য না হওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার কাচিনস্কি ও মোরাভিয়েৎস্কি বৈঠকে বসলেও কোনো সমাধান আসেনি।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং মোরাভিয়েৎস্কির সমর্থক পিওত্র মুলার দলের নেতৃত্বের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ লিখেছেন যে, 'ডেভেলপমেন্ট প্লাস'-এর সঙ্গে যুক্ত কোনো সদস্যই আসলে ল অ্যান্ড জাস্টিস থেকে পদত্যাগ করেননি। শুক্রবার মোরাভিয়েৎস্কি জানিয়েছেন, তিনি এবং তার সংগঠনের অন্য সদস্যরা নতুন কোনো দল গঠনের বিষয়ে এখনো আলোচনা করেননি। তবে পোলিশ প্রেস এজেন্সি (PAP)-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি মন্তব্য করেছেন যে, "আমাদের ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে হবে।"
উল্লেখ্য, পোল্যান্ডের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ সেজমের ৪৬০টি আসনের মধ্যে ল অ্যান্ড জাস্টিসের দখলে রয়েছে ১৮৬টি আসন।

