বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও ধারাবাহিকভাবে সদস্যদের আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। রোববার কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে পিএসসিতে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মেধার টুঁটি চেপে ধরা হয়েছিল। জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল চেতনা ছিল মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে পিএসসিকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার পরিবর্তে সেখানে পুনরায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
ছাত্রশিবির অভিযোগ করে, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কথা বললেও সরকার নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। উচ্চ আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে নিয়োগ, প্রশ্নফাঁস এবং ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের ছাঁটাইয়ের ঘটনাকে সরকারের দলীয়করণের রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা। পিএসসির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনকেও এই পরিকল্পনার অংশ বলে সন্দেহ করছেন নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। নেতৃবৃন্দের মতে, কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। রাজনৈতিক স্বার্থে পিএসসিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অবিলম্বে জুলাই সনদের আলোকে পিএসসিকে সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ।

