বাড়ি ভাড়া এমনিতেই আকাশচুম্বী, তার ওপর ঘরে বসে কাজ বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' করার জন্য গুণতে হবে অতিরিক্ত ২০০ ডলার! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকে একটি বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপনে এমন অদ্ভুত ফি যুক্ত করায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার ওয়ালনাট ক্রিকের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত 'দ্য কটেজ' নামের এই বাড়িটির বিজ্ঞাপন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এক বেডরুম ও এক বাথরুমের এই নতুন বাড়িটির মাসিক ভাড়া ধরা হয়েছিল ৩,২৫০ ডলার, যার মধ্যে মালী, ইন্টারনেট এবং ইউটিলিটি বিল অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘরে বসে কাজ করা চাকরিজীবীদের প্রতি মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' ফি দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিটি ভাইরাল হওয়ার পর বে এরিয়ার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, কারণ সেখানে ইতিমধ্যেই দেশের সবচেয়ে বেশি বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। অনেকেই এই ফি-কে "পাগলামি" ও "অযৌক্তিক" বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী জানান, উত্তর ক্যারোলিনায় মাসিক ৩০০ ডলারের হোম অফিস ফি দাবি করায় তিনি একটি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন।
বর্তমানে 'দ্য কটেজ'-এর বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইউএসএ টুডের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে বাড়ির মালিকরা কোনো মন্তব্য করেননি।
করোনা মহামারীর পর থেকে ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতা বাড়ায় বাড়ির মালিকরা ইউটিলিটি খরচের ওপর বেশি নজর দিচ্ছেন। আমেরিকান অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিপণন ও শিক্ষা পরিচালক আলেকজান্দ্রা আলভারাডো জানান, বিদ্যুৎ, পানি বা এসি ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে কিছু মালিক এমন ফি ধরলেও এটি অত্যন্ত বিরল। সাধারণত পুরো ভবনের ইউটিলিটি বিল ফ্ল্যাটের আকার বা বাসিন্দা সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ভাগ করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে বে এরিয়াতে বাড়ি ভাড়া দ্রুত বাড়ছে। জুম্পার (Zumper) এর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক বেডরুমের ভাড়া ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪,১৮০ ডলার এবং দুই বেডরুমের ভাড়া ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬,০২০ ডলারে পৌঁছেছে। আলভারাডো বলেন, "চাহিদা বেশি থাকায় কিছু মালিক ভাড়াটিয়ারা কত দিতে রাজি তা যাচাই করতে চান। তবে অবাস্তব ফি ধার্য করা কোনো সাধারণ বা ভালো অভ্যাস নয়।"
তিনি আরও যোগ করেন, এই বিজ্ঞপ্তির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে ভাড়াটিয়ারা স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট ভাড়া আশা করেন। এর ফলে তথাকথিত 'লুকানো ফি' বা 'জাঙ্ক ফি'র বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বে এরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ শতাংশ কর্মদিবসে ঘরে বসে কাজ করা হচ্ছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩২ শতাংশ। আলভারাডো জানান, আগে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকত শব্দ বা অতিরিক্ত মানুষের আনাগোনার আশঙ্কায়, কিন্তু কম্পিউটার দিয়ে শান্তভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে এমন ফি যৌক্তিক নয়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক নিক ব্লুম, যিনি রিমোট ওয়ার্ক নিয়ে গবেষণা করেন, জানান যে বাড়ির মালিকদের উচিত রিমোট ওয়ার্কারদের অতিরিক্ত চার্জ না করে বরং তাদের স্বাগত জানানো।

