প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ সফর নিয়ে জাপানের তীব্র প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। মস্কোতে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জাপানি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবাদের মাধ্যমে ‘শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন’ করেছে। লাভরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নিজ ভূখণ্ডের যেকোনো অংশে সফর করতে পারেন এবং এ নিয়ে জাপানের আপত্তি জানানোর কোনো ভিত্তি নেই।
গত ১৩ আগস্ট প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতুরুপ দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। এটিই ছিল এই দ্বীপটিতে তার প্রথম সফর। এরপরই জাপান সরকার এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানায়। দেশটির দাবি, দক্ষিণ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ, যাকে তারা ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ বলে অভিহিত করে, তা জাপানের অংশ। এই ইস্যুটি নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ইতুরুপ ছাড়াও কুনাসির, শিকোতান এবং হাবোমাই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
লাভরভ জানান, জাপানের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে মস্কোতে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত আকিরা মুতোকে তলব করা হয়েছিল। তবে জাপানি দূতাবাস জানিয়েছে, ১৪ আগস্ট বা ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি মস্কোতে না থাকা বা অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন, যা রাশিয়ার কাছে অস্পষ্ট বলে মনে হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের ‘মিলিটারিস্টিক’ বা সামরিক মনোভাবেরও সমালোচনা করেন। তিনি জাপানি সরকারকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলিয়ে নিজেদের দেশের সমস্যা নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। লাভরভ আরও যুক্তি তুলে ধরেন যে, জাতিসংঘে যোগদানের মাধ্যমে জাপান এর সনদ মেনে নিয়েছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল, যার মধ্যে কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের ওপর রাশিয়ার সার্বভৌমত্বও অন্তর্ভুক্ত, তা মেনে নিয়েছে।

