ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে ৯৮টি আকাশেই ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারেনি ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার পর মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে বিলম্বের কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। জেলেনস্কির মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউক্রেনে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ২০২৫ সালের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। তিনি জি-৭, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউক্রেনের মিত্রদের জীবন রক্ষায় দ্রুত নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই হামলায় অন্তত সাতটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ব্রিউইং কোম্পানি, নির্মাণ সামগ্রীর গুদাম এবং একটি রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে থাকতে পারে। উদ্ধারকারীরা একটি গুদামের ধ্বংসাবশেষ থেকে দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। আহতদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক রয়েছেন এবং চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি আবাসিক ভবনের পাশে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সামরিক প্রশাসন আরও জানিয়েছে, হামলার কারণে অ্যামোনিয়া লিক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে জরুরি কর্মীরা কাজ করছেন। কিয়েভের স্থানীয় বাসিন্দা নাতালিয়া রিউতস্কা এই রাতটিকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেনের বৃহত্তম খুচরা চেইন শপ ‘এপিসেন্ট্র’সহ একাধিক লজিস্টিক স্থাপনা ও একটি কারখানা এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিয়েভ ও এর আশেপাশের এলাকায় লজিস্টিক হাব ও সরবরাহ কেন্দ্রে হামলার কথা স্বীকার করেছে এবং সেগুলোকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দাবি করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ এটিকে ‘সন্ত্রাসের নীতি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, রাশিয়াকে তাদের আগ্রাসন ও অপরাধের জন্য মূল্য দিতে হবে। এদিকে, দনেৎস্ক অঞ্চলের ক্রামাতোর্স্ক শহরেও রাশিয়ার হামলা জোরদার হওয়ায় শত শত পরিবারকে শহর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন জানিয়েছেন, শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

