রাশিয়া ও ইউক্রেন রাতভর একে অপরের ওপর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখভাগ থেকে অনেক দূরের এলাকাগুলোতেও এই হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষেই হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, একটি রুশ ড্রোন সরাসরি কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ-এর সদর দপ্তরে আঘাত হেনেছে। ভলোদিমিরস্কা স্ট্রিটে অবস্থিত এই ভবনে সরাসরি সংস্থাটির প্রধানের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছাকাছি এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাজধানীতে রাশিয়ার জোরদার হামলার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হলো।
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে রাতভর রুশ হামলায় একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার। তিনি জানান, হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো, প্রশাসনিক ভবন এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া মোট ১২১টি ড্রোন এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যার মধ্যে ১০৩টি আকাশযান প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী অবকাশযাপন শহর সোচি এবং পার্শ্ববর্তী সিরিয়াস ফেডারেল অঞ্চলে ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। ক্রাসনোদর আঞ্চলিক পরিচালনা সদর দপ্তর জানিয়েছে, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর হামলায় রুশ ভূখণ্ড, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগরের আকাশ থেকে তারা ৪৯০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। এছাড়া রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক রসদ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানার দাবি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কিয়েভ অঞ্চলের একটি লজিস্টিক সেন্টার, ইউঝনি বন্দরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ এবং চর্নোমোর্স্কের একটি জ্বালানি টার্মিনাল। তবে উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

