গত মাসে রানঅ্যায়ারের একটি বিমানের ইঞ্জিনের ভাঙা অংশ ছিটকে এসে কেবিনের জানালা ভেঙে ফেলে। এর ফলে এক পুরুষ যাত্রীর মাথা ও ডান কাঁধ জানালার শূন্যস্থান দিয়ে বিমানের বাইরে চলে যায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন তদন্তকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১০ জুলাই গ্রিস থেকে জার্মানি যাওয়ার পথে উড্ডয়নের পরপরই ইঞ্জিনের একটি ফ্যান ব্লেড ভেঙে যাওয়ার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ল্যুবিসা কারোভিচ নামের এক সার্বিয়ান নাগরিকের মাথা ও ডান কাঁধ জানালার বাইরে চলে যায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। তাঁর স্ত্রী স্ভেতলানা গ্রকোভিচ মাকসিমোভিচ পরে বিবিসি সার্বিয়াকে জানান, তিনি এবং অন্য দুই যাত্রী মিলে বেশ কয়েক মিনিট ধরে তাঁর স্বামীর পা চেপে ধরে রেখেছিলেন যাতে তিনি পুরো বাইরে পড়ে না যান।
এনটিএসবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী ফ্লাইটটি উড্ডয়নের সময় ডান পাশের ২ নম্বর ইঞ্জিনে ফ্যান-ব্লেড-আউট (এফবিও) ত্রুটির সম্মুখীন হয়। এরপর বৈমানিকরা থেসালোনিকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখানে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। গ্রিক কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার তদন্তভার সম্পূর্ণভাবে এনটিএসবির হাতে হস্তান্তর করেছে।
বিমানের ক্রু সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের সময় তাঁরা ইঞ্জিনে তীব্র কম্পনের সতর্কতা সংকেত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা ইঞ্জিনের শক্তি কমিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিইক্ষা চালান। কম্পন বন্ধ হলে ক্রুরা অটো পাইলটের সাহায্যে বিমানটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ইঞ্জিনের কম্পন আবার বেড়ে যায় এবং একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর ক্রুরা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানটি নিচে নামাতে শুরু করেন।
কেবিন ক্রুরা জানান, তাঁরা কম্পন অনুভব করার পাশাপাশি সামান্য ধোঁয়া দেখতে পান এবং এরপরই অক্সিজেন মাস্কগুলো নেমে আসে। এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট জানান, এক যাত্রীর শরীরের অংশ জানালার ভাঙা অংশে আটকে যাওয়ায় অন্য যাত্রীরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। ওই জানালার পুরো কাচটিই গায়েব হয়ে গিয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ওই ইঞ্জিনের আল্ট্রাসনিক পরীক্ষা করা হয়েছিল, তবে তখন কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এর আগে রানঅ্যায়ারের প্রধান মাইকেল ও'লিয়ারি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইঞ্জিনে বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিমানটি পরিচালনা করছিল রানঅ্যায়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাল্টা এয়ার।

