সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরাকি ভূখণ্ড থেকে বেশ কয়েকটি ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রিয়াদ অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছিল। তবে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে রয়েছে 'ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়া' গোষ্ঠী। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং আগ্রাসনকারীদের প্রতিহত করতে সৌদি আরব যে কোনো সময় ও স্থানে যথাযথ জবাব দেওয়ার বৈধ অধিকার রাখে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি কর্তৃপক্ষ ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো না হয়। এ বিষয়ে ইরাকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। রোববার ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, গত দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা বন্ধ রাখায় তেহরানও সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা ধারাবাহিক আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরবর্তী সব ধরনের হামলা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল।

