দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে চলমান শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে ঐতিহাসিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক এক বছর পর এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হলো।
শনিবার আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে শান্তি সম্মেলন আয়োজন এবং সাক্ষী হিসেবে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নিকোল পাশিনিয়ান। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার "চূড়ান্ত" ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় নেতাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যে ওয়াশিংটন শান্তি সম্মেলনের ফলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণ অনুধাবন করতে পারছে।
ফোনালাপে তারা 'ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি' (টিআরআইপিপি বা ট্রিপ) প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে এর নির্মাণ কাজ শুরু করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ তিন দশকের সংঘাতের অবসান ঘটাতে হোয়াইট হাউসে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল বৈরিতার অবসান ঘটানো, যোগাযোগ পথগুলো পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ১৯৮০-এর দশকের শেষভাগ থেকে আজারবাইজানের কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী এই দুই দেশ দুটি বড় ধরনের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।
এদিকে আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতাই ওয়াশিংটন সম্মেলনের সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, এই যৌথ ঘোষণা অঞ্চলের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তিকে সুসংহত করেছে। বাকু ও ইয়েরেভানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের অবদানের জন্য আলিয়েভ তাকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে শান্তি প্রক্রিয়ায় আলিয়েভের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। গত এক বছরে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় এবং শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা না ঘটায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আর্মেনিয়ায় আজারবাইজানি তেলজাত পণ্য রপ্তানি, আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে আর্মেনিয়ায় পণ্য পরিবহন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক শুরু হওয়াকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে 'ট্রিপ' (TRIPP) প্রকল্পের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে আজারবাইজানে পরিবহন অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষের দিকে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখা এক চিঠিতে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দক্ষিণ ককেশাসে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ট্রাম্প একটি "ঐতিহাসিক মোড়" এনে দিয়েছেন। গত ৮ আগস্ট ওয়াশিংটন সম্মেলনের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে পাঠানো এই চিঠিতে আলিয়েভ বলেন, ট্রাম্পের দৃঢ় সংকল্পের কারণেই তিন দশকের পুরনো একটি সংঘাতের অবসান ঘটেছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে।

