দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে আটজন দক্ষিণ কোরীয় শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ওসান বিমান ঘাঁটিতে (Osan Air Base) এই ঘটনা ঘটে। আটক করার সময় তারা আমেরিকা-বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, ওসান বিমান ঘাঁটিতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করার পর মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মীরা চারজন ছাত্র এবং চারজন ছাত্রীকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের দক্ষিণ কোরীয় পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সামরিক স্থাপনা সুরক্ষা আইনের আওতায় এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা তাদের নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থীরা "আসুন মার্কিন সপ্তম বিমান বাহিনীকে ধ্বংস করি" (Let’s smash U.S. 7th Air Force) সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে 'কোরিয়ান প্রোগ্রেসিভ ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন' দাবি করেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিরা তাদের সংগঠনের সদস্য। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টার প্রকল্পে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরোধিতার প্রতিবাদ জানাতেই তারা এই বিক্ষোভের চেষ্টা করেছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ এই ছাত্র সংগঠনের বিবৃতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের কারণে স্থানান্তরিত হতে যাওয়া একটি সামরিক বিমানবন্দরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই দলটি ঘাঁটির প্রধান ফটক দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। যেকোনো মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এই বিষয়টি মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযোজ্য আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী সমাধান করা হবে বলে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮,৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ কোনো শান্তি চুক্তির পরিবর্তে কেবল একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর থেকেই এই সেনা উপস্থিতি বজায় রয়েছে। যদিও বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে যে অধিকাংশ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক এই দ্বিপাক্ষিক সামরিক জোটকে সমর্থন করেন, তবে দেশের আধুনিক ইতিহাসে মার্কিন উপস্থিতি এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘকাল ধরে আমেরিকা-বিরোধী মনোভাব কাজ করছে।
এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত সেনা ব্যয়ের দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে সিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ।

