জুভেন্টাস কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি ইতালীয় সংবাদমাধ্যম তুত্তোস্পোর্টকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তার ক্যারিয়ারে গড়ে তোলা বিভিন্ন ফুটবল প্রতিভাদের নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি তরুণ তুর্কি তারকা কেনান ইলদিজের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচের খেলার ঘাটতি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। স্পালেত্তির মতে, ভ্লাহোভিচ নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করেন।
দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে স্পালেত্তি অসংখ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পিএসজিতে ব্যালন ডি'অরের দাবিদার হয়ে ওঠার আগে নাপোলিতে খেলা খভিচা কভারাতসখেলিয়া কিংবা লিভারপুলের কিংবদন্তি হওয়ার পথে রোমায় খেলা মোহাম্মদ সালাহ। স্পালেত্তি বলেন, একজন কোচের কাজ হলো খেলোয়াড়দের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবাইকে একই ধারায় চিন্তা করানো। তিনি মনে করেন, কেবল প্রতিভাদের জড়ো করলেই চলে না, বরং তাদের প্রত্যেকের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয়।
নিজের ক্যারিয়ারের প্রভাব বিস্তারকারী খেলোয়াড়দের উদাহরণ দিয়ে স্পালেত্তি বলেন, উদিনেসের ডেভিড পিজারো, নাপোলির স্তানিস্লাভ লোবোটকা ও কভারা, রোমার সালাহ এবং ইন্টার মিলানের জোয়াও কানসেলোকে তিনি বিশেষভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছেন। তিনি জানান, ভিন্ন ঘরানার ফুটবল থেকে আসা কভারাতসখেলিয়াকে তারা মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিলেন। আর মোহাম্মদ সালাহ সম্পর্কে তিনি সোজাসুজি বলেন, সালাহকে কোচিং করানোর সৌভাগ্য যারই হবে, সালাহ তার হাতে ব্যালন ডি'অর এনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। পিজারোকে প্রথাগত ত্রেকুয়ার্তিস্তা পজিশন থেকে সরিয়ে রক্ষণভাগের সামনে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, যাতে পিজারো ৩০০ শতাংশ বেশি বল স্পর্শ করার সুযোগ পান এবং ভিড়ের মধ্যেও জায়গা তৈরি করতে পারেন। অন্যদিকে, নাপোলিতে যোগ দেওয়ার পর লোবোটকাকে সবাই প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। স্পালেত্তি তাকে আশ্বস্ত করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেন।
বর্তমানে জুভেন্টাসে স্পালেত্তির অধীনে থাকা যে খেলোয়াড়টির যত্ন নেওয়া প্রয়োজন, তিনি হলেন কেনান ইলদিজ। যদিও তুরস্কের এই আন্তর্জাতিক ফুটবলার বর্তমানে হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। ইলদিজ সম্পর্কে স্পালেত্তি বলেন, ইলদিজ ফুটবলের ওপর ক্রোমের প্রলেপ দেয়, সে খেলাটাকে উজ্জ্বল করে তোলে। তার প্রতিটি মুভমেন্ট অসাধারণ এবং তা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে দেয়। সে যখন দৌড় শুরু করে, তখন তার নিজেরও হয়তো জানা থাকে না যে সে পরবর্তীতে কী করতে যাচ্ছে। অনুশীলনেও ডিফেন্ডাররা তার মুভমেন্ট বুঝতে পেরেও তাকে আটকাতে পারে না। তার মধ্যে এক ধরনের উদ্ভাবনী পাগলামি রয়েছে।
ইলদিজকে কভারাতসখেলিয়ার সমতুল্য মনে করেন স্পালেত্তি। তার মতে, ইলদিজের আরও কিছুটা ম্যাচ খেলা প্রয়োজন, তবে তাদের মধ্যে এক ধরণের অপ্রত্যাশিত খেলার ধরন এবং ফুটবলের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে খেলার মিল রয়েছে। ইলদিজকে একজন শান্ত স্বভাবের অথচ কথা না বলেও নেতৃত্ব দিতে জানা চমৎকার ছেলে হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
ক্যারিয়ারে কোনো খেলোয়াড়কে পুরোপুরি বুঝতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে স্পালেত্তি নাপোলির আদাম উনাসের নাম উল্লেখ করেন। সবশেষে দুসান ভ্লাহোভিচ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভ্লাহোভিচকে নিজের ভেতরে একটি ব্যক্তিগত ভারসাম্য খুঁজে পেতে হবে, কারণ সে নিজেই নিজের সমস্যা তৈরি করে। অতিরিক্ত গ্যাস দেওয়া (গতি বাড়ানো) যেমন খারাপ, পর্যাপ্ত না দেওয়াও ঠিক তেমনি খারাপ। এটি আসলে একটি ভারসাম্য এবং সঠিক মানসিক তাপমাত্রা খুঁজে পাওয়ার বিষয়।

