চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) সাবেক প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দলটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুরেশ রায়না। ২০২৬ মৌসুমের পর পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই ও ফ্লেমিং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যান।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়ার একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে রায়না চেন্নাই সুপার কিংসের সফলতার পেছনের রহস্য উন্মোচন করেন। সেখানে তিনি অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের প্রধান কোচ ফ্লেমিংয়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন। ফ্লেমিং ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চেন্নাইয়ের ডাগআউট সামলেছেন। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক কীভাবে ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি দৃঢ় বন্ধন তৈরি করেছিলেন, তা প্রকাশ করে রায়না বলেন যে ফ্লেমিংয়ের আরও অনেক বেশি কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।
রায়না বলেন, "এটি একটি পরিবার। আমাদের দলে ভালো স্থানীয় খেলোয়াড়ও ছিল। আপনি তখনই সেরা অধিনায়ক, যখন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে দল গঠন করবেন। ফ্লেমিং ভারতীয় খেলোয়াড়দের ওপর বেশি মনোযোগ দিতেন এবং তাদের পারফর্ম করানোর চেষ্টা করতেন। সিএসকে পাঁচবার শিরোপা জিতেছে কারণ অধিনায়ক জানতেন কার কাছ থেকে কী আদায় করতে হবে, এবং দলের মধ্যে কার্যকারিতা ও বোঝাপড়া ছিল। ফ্লেমিং আমাদের ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ বা ভাইদের দল বলে ডাকতেন। ফ্লেমিং সত্যিই অনন্য ছিলেন। আমার মনে হয় তাকে যতটুকু কৃতিত্ব দেওয়া হয়, তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ার যোগ্য।"
ফ্লেমিংয়ের অধীনে চেন্নাই পাঁচটি আইপিএল শিরোপা জিতেছে এবং তারা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। চেন্নাইয়ের অধ্যায় শেষ করে ফ্লেমিং এখন ইংল্যান্ডের পুরুষ টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।
একই পডকাস্টে রায়না টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিজের সফলতার রহস্য নিয়েও কথা বলেন। ভারতের হয়ে সব ফরম্যাটে খেললেও রায়না সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটের অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত। রায়না জানান কীভাবে এই ফরম্যাটে তিনি নিজের মানসিকতা তৈরি করেছিলেন এবং ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে নেমেও সফল হয়েছিলেন।
রায়না বলেন, "২০০৮ সালে আইপিএল নিলামের আগে আহমেদাবাদে একটি সিরিজ হয়েছিল এবং আমি সেখানে তিন নম্বরে ব্যাটিং করেছিলাম। এরপর এমন একটা ফরম্যাট এলো যার সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না এবং চেন্নাইয়ের উইকেট কেমন আচরণ করবে তাও জানা ছিল না। সেখানে মানসিকতাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অধিনায়ক, কোচ এবং ব্যাটিং পার্টনারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করাটাও অনেক বড় বিষয় ছিল। আমি খেলার স্বাধীনতা পেয়েছিলাম এবং আমার মনে হয়েছিল এখানে রান করতে পারলে আমি ভারতীয় দলে জায়গা পাব। তাই আমি এই ফরম্যাট হাতছাড়া করতে চাইনি।"
রায়না ভারতের হয়ে ৭৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৩৪.৮৭ স্ট্রাইক রেটে ১,৬০৫ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি। অন্যদিকে, আইপিএলে ২০৫ ম্যাচে ৩২.৫১ গড় ও ১৩৬.৭৩ স্ট্রাইক রেটে তিনি মোট ৫,৫২৮ রান করেছেন। আইপিএল ক্যারিয়ারে তাঁর একটি সেঞ্চুরি ও ৩৯টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে।
