সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ হাসান আল-শাইবানি এবং সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম বারাক ইস্তাম্বুলে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিরিয়ান আরব নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের এই আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা ও সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাগুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
মার্কিন দূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট। বারাক সিরিয়াকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির একটি ‘মূল উপাদান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অঞ্চলটির সামনে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, এই কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী বাশার আল-আসাদ শাসনামলের পাঁচজন সাবেক মিলিশিয়া ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহিন হামদান আল-শাহিনকে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যিনি ‘শাওয়াহিন রেজিমেন্ট’ মিলিশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-শাহিন ২০১৫ সালে সুহেইল আল-হাসানের অধীনে সাবেক শাসনামলের এয়ার ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র গোষ্ঠী গঠনে সহায়তা করেছিলেন।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, আল-শাহিন ২০১৭ সালে পূর্ব হামা প্রদেশে এবং ইথ্রিয়া-রাক্কা সড়কে সংঘটিত গণহত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সাল পর্যন্ত পালমিরা এবং দেইর ইজ্জোর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞে নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠীর কমান্ডার হিসেবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

