মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ বর্তমানে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে অথবা দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। সশস্ত্র সংঘাত, মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেশটিতে বঞ্চনার চিত্রকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৩২.৬ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের শিকার। পাশাপাশি, আরও ১৯.৫ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। সব মিলিয়ে মিয়ানমারের প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬৮ শতাংশ, বর্তমানে এই সংকটের মুখোমুখি।

২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমার চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কঠোরভাবে দমন করা হয়, যার ফলে অনেকেই সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়। এর ফলে দেশটির বড় একটি অংশ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কবলে পড়েছে।

ইউএনডিপির এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এবং জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগনারাজা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “মিয়ানমারে আমরা এমন এক গভীর দারিদ্র্য দেখছি যা মানবিক উন্নয়নকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। এটি একটি উভয়পক্ষের জন্যই পরাজয়ের যুদ্ধ। দেশের মূল শক্তি পদ্ধতিগতভাবে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।”

দেশব্যাপী ৭,৪৬৩টি পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স ব্যবহার করা হয়েছে, যা কেবল আয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত আবাসন, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য জরুরি সেবায় ঘাটতিই দারিদ্র্যের ৮০ শতাংশের বেশি কারণ। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই পরিস্থিতি প্রকট।

রাখাইন এবং কায়া রাজ্যের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে দারিদ্র্যের ব্যাপকতা সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের শিক্ষা, অনিরাপদ কর্মসংস্থান, কম আয়, বাস্তুচ্যুতি এবং বাজারের অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব এই দারিদ্র্যকে আরও গভীর করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে অন্তত ১০ লক্ষ তরুণ শিক্ষার সুযোগের অভাব এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে মিয়ানমার ছেড়ে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাব দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যের গতি কমিয়ে দিয়েছে।

শিরোনাম :
রাঁচিতে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় ভারত, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের প্রশ্ন ইস্তাম্বুলে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আসাদ আমলের ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ রংপুরে চার খুনের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ শনাক্ত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতেই ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন: কোটাক চোটের কবলে কার্টিস জোন্স, বিকল্প ভাবনায় ইন্টার মিলান রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই বাড়িতে মেহমানদারির সংস্কৃতি কি হারিয়ে যাচ্ছে? কমছে সামাজিক যোগাযোগ অ্যান্ড্রুর বাড়িতে তল্লাশির পরোয়ানা বেআইনি ছিল, জানাল আদালত রাঁচিতে জয়ের ধারা ধরে রাখতে চায় ভারত, ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্পের যুক্তি নিয়ে মার্কিন বিচারকের প্রশ্ন ইস্তাম্বুলে সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, আসাদ আমলের ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মিয়ানমারের ৬৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ রংপুরে চার খুনের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ শনাক্ত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে অভিজ্ঞতার ঘাটতি মেটাতেই ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন: কোটাক চোটের কবলে কার্টিস জোন্স, বিকল্প ভাবনায় ইন্টার মিলান রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই বাড়িতে মেহমানদারির সংস্কৃতি কি হারিয়ে যাচ্ছে? কমছে সামাজিক যোগাযোগ অ্যান্ড্রুর বাড়িতে তল্লাশির পরোয়ানা বেআইনি ছিল, জানাল আদালত