মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ও প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেভাবে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব নয়। এই ঘাটতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের অপারেশন নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকার সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ নেতৃত্ব এখন ইরান যুদ্ধের চাহিদা মেটানো এবং চীনসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা শিল্প খাতও চাহিদার অনুপাতে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে পারছে না, যার ফলে অস্ত্রাগারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় ইরান সমর্থিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইন্টারসেপ্টরের ব্যবহার অত্যধিক হারে বেড়ে গেছে।
কুয়েত ও বাহরাইনের অবকাঠামোয় ইরানের তীব্র হামলার প্রেক্ষিতে একটি অংশ যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে। যদিও গত মাসে ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, অস্ত্র মজুত নিয়ে কোনো সংকট নেই এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কমান্ডাররা বর্তমানে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে জিপিএস-গাইডেড জেডিএএম (JDAM) এবং স্মল ডায়ামিটার বোম্বের মতো অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। টমাহক ক্রুজ মিসাইল বা জ্যাসসম (JASSM)-এর মতো উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রগুলো এখন অত্যন্ত পরিমিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো জানিয়েছেন, টমাহক বা জ্যাসসম-এর মতো সিস্টেমের উৎপাদন বাড়াতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, অস্ত্রাগারের সক্ষমতা সীমিত এবং এগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা মেটাতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত কিছু ইন্টারসেপ্টর সরিয়ে নিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত প্রস্তুতিকে কিছুটা নাজুক করে তুলেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল অবশ্য দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের প্রয়োজনে যেকোনো অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে ২০২২ সালে এলব্রিজ কোলবি, যিনি প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন এবং বর্তমানে পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি, তিনি বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্য নিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন: "ইউরোপে ব্যবহৃত একটি ক্ষেপণাস্ত্র এশিয়ায় ব্যবহার করা যাবে না," যা টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে, অস্ত্রের কেবল আর্থিক মূল্য নয়, বরং পুনরুৎপাদনের দীর্ঘ সময়কালই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

