যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে কিছুটা ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর নর্থ ক্যারোলিনার গ্যাস্টোনিয়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের জন্য এই মূল্য দেওয়াটা আসলে খুবই সামান্য। তিনি বলেন, আমরা যা করছি, তার তুলনায় জ্বালানির এই বাড়তি দাম খুবই নগণ্য। এমনকি দাম যদি আরও অনেক বেশি হতো, তবুও এটি খুব বড় কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য খুব দ্রুতই কমে আসবে। তিনি একে 'রকেট শিপের উল্টো গতির' সঙ্গে তুলনা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। গ্যাস্টোনিয়ার এই সমাবেশে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি, যিনি ডেমোক্র্যাট রয় কুপারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় দাম ৪.৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন অর্থাৎ ১৬ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এই দাম সাত সেন্ট বেশি। এছাড়া এক মাস আগের তুলনায় এই দাম ৩৭ সেন্ট এবং এক বছর আগের তুলনায় ১.২০ ডলারের বেশি বেড়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই যুদ্ধের পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মার্কেটের ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাজের প্রতি ৩৭ শতাংশ আমেরিকান সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে তার জন্য সর্বনিম্ন।
জরিপে দেখা গেছে, বর্ডার নিরাপত্তা, অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি, শুল্ক, অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির দাম এবং মূল্যস্ফীতি—এই আটটি বিষয়েই প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা আগের জুলাইয়ের জরিপের তুলনায় কমেছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমে মাত্র ১৯ শতাংশ এবং জ্বালানির দামের বিষয়ে ২০ শতাংশ আমেরিকান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

