মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধ আরও তীব্র করার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। ২০ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি পুরো ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের উচিত যথাযথ আচরণ করা। তবে এর বাইরে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, এই সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি আগ্রহী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ট্রাম্প বারবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সেই হুমকি অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এর আগে এপ্রিল মাসেও ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তা আর ফিরে আসবে না।
ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নতুন কোনো আক্রমণ হলে তা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশোধের জন্ম দেবে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তারা জানিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী আরও জানায় যে, তারা একটি আক্রমণের প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে, যদিও সেই তথ্যের বিস্তারিত তারা প্রকাশ করেনি।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, শত্রুদের পিছু হটতে বাধ্য করতে এবং কূটনীতির মাধ্যমে অর্জনগুলো সুসংহত করতে ইরান লড়াই ও আলোচনার পথ খোলা রাখবে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব বাড়ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিরা বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এলাকায় রাতের বেলা বিস্ফোরণের পর বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ছে।
লোহিত সাগরের উপকূলে তাদের এই অবস্থানের ফলে বাবেল মানদেব প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা এশিয়া ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানি প্রায় বন্ধের পথে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এই সংঘাতের ফলে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্তত ৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
তবে এই হিসাবটি মূলত কম বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ এতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পেন্টাগন জানিয়েছে, গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাবদ তাদের প্রায় ২৮.১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা ইন্দো-প্যাসিফিকের মতো অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ১৮ জন আমেরিকান নিহত এবং ৮ শতাধিক আহত হয়েছেন।

