মিয়ানমার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের (AmCham Myanmar) একজন সাবেক বোর্ড সদস্যকে স্পেনে আটক করা হয়েছে। মুনিমুল ইসলাম নামের এই ব্যক্তি, যিনি মিসফিট টেকনোলজিসের সিইও, মঙ্গলবার বার্সেলোনার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে তার স্ত্রীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন।
মুনিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগটি মূলত ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি জনসংযোগ সংস্থাকে লবিংয়ের জন্য অর্থ প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত। চেম্বারের বর্তমান বোর্ডের অভিযোগ, মুনিমুল ইসলাম সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৩,০০,০০০ ডলার অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছেন এবং তা সংগঠনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেননি। এই অভিযোগটি মূলত ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০২৪ সালে মারকিউরি পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
তবে মুনিমুল ইসলামের আইনজীবী ক্রিস্টিয়ান কার্সি এবং তার সমর্থকরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেছেন। মুনিমুলের দাবি, তার কোম্পানি মারকিউরি পাবলিক অ্যাফেয়ার্সকে সরাসরি ৩,০০,০০০ ডলার প্রদান করেছে এবং মার্কিন সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তা যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি এক ভয়েস বার্তায় জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণ রয়েছে এবং মিয়ানমার আদালতে তা জমা দেওয়া হয়েছে।
মুনিমুল ইসলামকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ইন্টারপোলের 'রেড নোটিশ'-এর ভিত্তিতে আটক করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে অস্থিরতা চলছে। এর আগে, মুনিমুল ইসলাম একজন সাবেক ইউএস মেরিন হিসেবে ১৬ সেপ্টেম্বর ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগার থেকে তিন মাস পর মুক্তি পেয়েছিলেন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে চেম্বারের নথিপত্র নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একদিকে চেম্বার কর্তৃপক্ষ বলছে, এই লবিং চুক্তির অনুমোদন বোর্ড দেয়নি এবং কোনো সেবাও নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, মুনিমুলের সমর্থকদের দাবি, বোর্ড রেজুলেশনের মাধ্যমে এই উদ্যোগ ও অর্থ প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এমনকি মারকিউরি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স যে ওয়াশিংটনে বেশ কয়েকটি সভায় অংশ নিয়েছিল, তার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
বর্তমানে মুনিমুল ইসলাম স্পেনে হেফাজতে রয়েছেন কারণ সেখানে তার কোনো স্থায়ী আবাস নেই। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের ঝুঁকি থাকে, তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

