ওয়াশিংটন ডিসির একটি আদালত মার্কিন অলিম্পিক ক্যানোয়ার ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে আনা ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের ক্ষতিসাধনের (ভ্যান্ডালিজম) ফৌজদারি মামলাটি স্থায়ীভাবে খারিজ করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬) এই রায় দেন সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক টড এডেলম্যান। সম্প্রতি সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে পুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করার পর দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল।
এর আগে গত আগস্টে ফেডারেল প্রসিকিউটররা ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে আনা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের গুরুতর অভিযোগটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে রিফ্লেক্টিং পুলের নিচে লাগানো সিল্যান্টের ১,০০০ ডলারের বেশি মূল্যের ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে হার্ন শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। তিনি জানান, জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে ৬৪ মাইল সাইকেল চালানোর সময় তিনি রিফ্লেক্টিং পুলের পাশে থামেন এবং পুলে হাত দেওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।
যদিও জুলাই মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো দাবি করেছিলেন যে হার্ন পুলের ক্ষতি করেছেন, তবে পরবর্তীতে ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় আদালতে স্বীকার করে যে হার্ন আসলে কোনো ক্ষতি করেননি। প্রসিকিউটররা জানান, নতুন তথ্যে জানা গেছে যে পুলের আস্তরণ ফেটে যাওয়ার কারণ ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিপূর্ণ কাজ। বিচারক এডেলম্যান মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করলেও এটি 'উইথ প্রেজুডিস' (অর্থাৎ মামলাটি আর কখনো পুনরায় দায়ের করা যাবে না) নাকি 'উইদাউট প্রেজুডিস' (ভবিষ্যতে আবার মামলা করার সুযোগ রেখে) খারিজ হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত বাকি ছিল। হার্নের আইনজীবীরা স্থায়ীভাবে মামলা বাতিলের দাবি জানালেও পিরোর কার্যালয় মামলাটি পুনরায় সচল করার সুযোগ রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল।
অবশেষে বিচারক এডেলম্যান স্থায়ীভাবেই মামলাটি খারিজ করেন। তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, মামলাটি শুরু হওয়ার এক মাসের মধ্যেই সরকার বুঝতে পেরেছিল যে তাদের প্রসিকিউশনের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, হার্নকে পুনরায় অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হলে তা হবে একটি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।
পিরোর কার্যালয় মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের মনোনীত ডিসি প্রসিকিউটরের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পিরো এই সিদ্ধান্তে ভুল করেছেন। ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছিলেন যে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলারের এই প্রকল্পের ক্ষতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে নয়, বরং ভ্যান্ডালদের (উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি) কারণে হয়েছে। গত ২০ জুন ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে রিফ্লেক্টিং পুলে ভ্যান্ডালিজমের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পিরো হোয়াইট হাউসে প্রমাণপত্র নিয়ে গিয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে ক্ষতিটি আসলে নিম্নমানের কাজের কারণেই হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'আটলান্টিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোটিংস' সরকারি নথিতে স্বীকার করেছে যে তাদের কর্মীরা পর্যাপ্ত প্রাইমার ব্যবহার করেননি এবং ব্যবহৃত রাসায়নিক দুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এদিকে, মামলা প্রত্যাহারের কয়েকদিন পর সিবিএস নিউজ জানায়, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বিচার বিভাগকে হার্নের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করার কোনো সুযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বলেছিলেন। হার্নের আইনজীবী নরম আইজেন আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারপ্রার্থী এক নিরীহ আমেরিকান নাগরিকের বিজয়। তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি একেবারেই দায়ের করা উচিত হয়নি। এই প্রসিকিউশন ছিল ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং প্রতিটি আমেরিকানকে স্তম্ভিত করার মতো একটি ঘটনা। রায়ের বিষয়ে পিরোর কার্যালয়ের কোনো মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

