প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ওহাইওর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাক মিলারের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি মিলারের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মিলারের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনো এবং তাদের ২ বছর বয়সী কন্যার ওপর শারীরিক নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই আলোচনা হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ২ টি সূত্র সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক মিলার ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি তার প্রচারণার অভ্যন্তরীণ জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে ট্রাম্পকে জানান, ২০২৫ সালের পুনর্নির্বাচনের জন্য তার অবস্থান বেশ শক্তিশালী। সিবিএস নিউজ অবশ্য এই জরিপের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন মিলার। তিনি বলেন, “আমি যদি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই, তবে তার মানে হবে আমাদের জাতি তার আমেরিকান মূল্যবোধ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। জনমতের চাপের মুখে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আমি মিথ্যা দাবিগুলোকে বৈধতা দেব না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।” তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি তার নির্বাচনী এলাকার স্বার্থ রক্ষায় ভালো কাজ করেছেন।
মিলার তার সাবেক স্ত্রী এমিলি মোরেনোর বিরুদ্ধে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং তাদের কন্যার ওপর নির্যাতনের পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক লাইভস্ট্রিম অনুষ্ঠানে মিলার দাবি করেন, এই অভিযোগগুলো তাদের চলমান শিশু হেফাজত লড়াইকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৬ জানুয়ারির ঘটনার পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। উল্লেখ্য, মিলার ২০২২ সালে তৎকালীন ইনকামবেন্ট রিপাবলিকান অ্যান্থনি গঞ্জালেজের বিরুদ্ধে প্রথমবার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন, যিনি ৬ জানুয়ারির হামলার পর ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। মিলার ও গ্রিশাম ২০২৩ সালে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
এমিলি মোরেনোর মুখপাত্র স্টিফান মাইচাজলিউ মিলারের লাইভস্ট্রিমকে “লজ্জাজনক” এবং “মিথ্যায় ভরা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “মিলারের সহিংস ও বিপজ্জনক আচরণের অনেক নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের নিয়ে কটাক্ষ করে কোনো লাভ হবে না।”
মিলার বর্তমানে কংগ্রেসে তৃতীয় মেয়াদে লড়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে, এমিলির বাবা এবং ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো গত সপ্তাহান্তে জানিয়েছেন যে, এই অভিযোগগুলোর কারণে মিলারের কংগ্রেসে থাকা উচিত নয়। তিনি মিলারকে “মানসিক সাহায্য নেওয়ার” পরামর্শ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সোমবার ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের প্রেস সচিব এবং মিলারের প্রাক্তন প্রেমিকা স্টেফানি গ্রিশামের আইনজীবী মার্ক জেইড সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, তারা মিলারের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা (রেস্ট্রেনিং অর্ডার) চেয়ে আবেদন করেছেন। গ্রিশাম ২০১৯-২০২০ সালে মিলারের সাথে সম্পর্কে ছিলেন এবং ২০২১ সালে তার স্মৃতিকথা ও ওয়াশিংটন পোস্টের কলামে মিলারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে, এই অভিযোগগুলো ঘিরে মিলারের নির্বাচনী প্রচারণা বর্তমানে বেশ চাপের মুখে রয়েছে।

