বর্তমানে ভারতে আশ্রয়ে থাকা বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন দেশে ফিরে তার ওপর নির্যাতনকারী হিসেবে অভিযুক্ত কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এটি তার আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
তসলিমা নাসরিন তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'ক'—যা ভারতে 'দ্বিখণ্ডিত' নামে প্রকাশিত হয়েছে—সেখানে দেশের খ্যাতনামা কয়েকজন কবি, সাহিত্যিক, বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও বিজ্ঞানমনস্ক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে তাদের মাধ্যমে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন। লেখিকার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরাই তাকে দেশে ফিরতে বাধা দিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তসলিমা নাসরিন যদি দেশে এসে এসব বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেন, তবে আদালত স্বাভাবিক গতিতেই তা বিবেচনা করবে। কারণ ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদি হয় না।
ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, যেহেতু তসলিমা নাসরিন ভুক্তভোগী, তাই তিনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি একান্তই তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, তসলিমা নাসরিনের বইটিতে ইমদাদুল হক মিলন ও সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অন্তরঙ্গ বিবরণের পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের বিবরণ রয়েছে। বইটিতে ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে লেখকের ঘনিষ্ঠতা ও শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিতপূর্ণ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কবি সৈয়দ শামসুল হক সম্পর্কে একটি গোপন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করার কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন।

