মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। টেনেসিতে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার সময় হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শনিবার তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে ইরান কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওয়াশিংটন যদি এই পরিকল্পনা মেনে নেয়, তবে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি জানান, ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর থেকেই সাত দিনের এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে। তার ভাষ্যমতে, প্রথম চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে ষষ্ঠ দিনে প্রণালীটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি। সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই শিপিং চ্যানেলটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের শর্তাবলি তুলে ধরেন। জাতিসংঘের মঞ্চে আরাকচি বলেন, ইরান কোনো ধরনের জবরদস্তি, হুমকি বা ভয়ভীতি মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ত্যাগ করবে না। তিনি আরও বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর।
ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি পালন করা। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে এই প্রস্তাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায় যে, ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন না।

