ইরানি গুপ্তহত্যার চক্রান্ত এড়াতে এক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তুরস্ক সফর শেষে তাকে একটি খাবার সরবরাহকারী (ক্যাটারিং) ট্রাকে করে অত্যন্ত গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে ওয়াশিংটন পোস্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এই ছদ্মবেশী অভিযানে ডিকয় বা ফাঁদ হিসেবে কয়েকটি বিমানও ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে চড়ে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালেই ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রথম ধাপের যাত্রার জন্য পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি ব্যবহার করবেন এবং তার নতুন বিমানটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের নতুন তথ্য বলছে, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি যখন তুরস্ক ত্যাগ করে, তখন প্রেসিডেন্ট সেটিতে ছিলেন না। তার নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে অত্যন্ত গোপনে বিমানটি থেকে নামিয়ে অন্য একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়। আর এই স্থানান্তরের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল রানওয়েতে বিমানের খাবার ও পানীয় সরবরাহে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ক্যাটারিং ট্রাক।
এই অভিযানের সময় হোয়াইট হাউসের কর্মী এবং সাংবাদিকরা পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প যে তাদের সাথে নেই এবং নিজের সুরক্ষায় অন্য একটি বিমানে উঠেছেন, সে বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। সেই সময় হালকা নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান থেকে হোয়াইট হাউসের এক পুল রিপোর্টার জানান, "আমরা রাত ৮:৪৩ মিনিটে আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করেছি। আমাদের প্রেস কেবিনের জানালার পর্দাগুলো বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"
আসলে ট্রাম্পকে বহন করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল তুলনামূলক ছোট 'এয়ার ফোর্স সি-৩২এ' বিমান। এই বিমানটি পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে বহনের জন্য মার্কিন বহরের অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে গিয়েছিল। হেগসেথ স্বাভাবিকভাবেই সিঁড়ি দিয়ে বিমানে উঠেছিলেন, যাতে কেউ সন্দেহ না করতে পারে। এরপর বিমানটি যুক্তরাজ্যের সাফোকের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিল্ডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায়। সেখান থেকে ট্রাম্প ও তার কর্মীরা নতুন লাল, সাদা ও নীল রঙের বোয়িং ৭৪৭-বি বিমানে চড়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ৯ জুলাই ভোরে ওয়াশিংটনের বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করেন।
এই ছদ্মবেশী অভিযানের সময় ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছিল। গত ৮ জুলাই তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ 'শেষ' এবং তিনি দেশটিতে শক্তিশালী হামলার হুঁশিয়ারি দেন। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং প্রেসিডেন্টের ওপর থাকা হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নজর রাখছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় বিভ্রান্তি সৃষ্টিসহ সব ধরণের কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
