লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা মামলাগুলো থেকে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে মার্কিন কৌঁসুলি জেনিন পিরোর ওপর প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, পিরো এই বিষয়ে ভুল করেছেন এবং তিনি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, পিরো এই মামলাগুলোতে ‘ছাতা’র মতো নতি স্বীকার করেছেন এবং তিনি ‘দম বন্ধ’ বা ‘চোক’ করেছেন।
গত শুক্রবার বিচার বিভাগ আদালতে একটি নথিপত্র জমা দেয়, যেখানে ৬৭ বছর বয়সী সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভাঙচুরের অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিফ্লেক্টিং পুলের লাইনিংয়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তা ভাঙচুরের কারণে নয়, বরং ঠিকাদারের ভুল কাজ এবং ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনার কারণে হয়েছে।
ডিসি সুপিরিয়র কোর্টের নথিপত্র অনুযায়ী, শুক্রবারের পর থেকে জেনিন পিরোর কার্যালয় আরও তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোও তুলে নেওয়ার বা খারিজ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে লঘু অপরাধ এবং একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।
এর আগে শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের সাথে ‘১০০ শতাংশ দ্বিমত’ পোষণ করেছিলেন, তবে সোমবার ওভাল অফিসে তিনি আরও কঠোর ভাষায় নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি জেনিন পিরোর ওপর হতাশ। সত্যিই হতাশ। আমি জানি না সেখানে আসলে কী ঘটেছিল।” ট্রাম্পকে পিরোকে বরখাস্ত করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি।
এদিকে, ডেভিড হার্ন, যিনি মেরিল্যান্ডের বেথেসডায় বসবাস করেন, দাবি করেছেন যে ১৯ জুন তিনি ৬৪ মাইল সাইকেল চালানোর সময় পুলের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সেখানে পুলের সিল্যান্টের একটি অংশ স্পর্শ করার পর কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মামলাটি শুরু থেকেই করা উচিত হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে হার্নের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
অথচ এই একই জেনিন পিরো যখন হার্নের বিরুদ্ধে মামলাটি প্রথম দায়ের করেছিলেন, তখন তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের ক্ষতি এবং ভাঙচুর আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক একটি চিত্র। এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।”

