প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগে ওয়াশিংটনের পোটোম্যাক নদীর তীরে একটি বিশাল ‘বিজয় তোরণ’ বা ট্রায়াম্ফাল আর্চ নির্মাণের কাজ দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক খনন কাজ শুরু হবে।
জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস) জানিয়েছে, প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা করে বছরজুড়ে নির্মাণ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় ২৫০ ফুট উঁচু এই তোরণটি গ্রানাইট পাথরে মোড়ানো থাকবে এবং এর ওপরে তিনটি সোনালি মূর্তি ও একটি পর্যবেক্ষণ ডেক থাকবে। এটি আর্লিংটন মেমোরিয়াল সিমেট্রির কাছাকাছি একটি ট্রাফিক সার্কেলে এবং লিংকন মেমোরিয়ালের ঠিক উল্টো দিকে নদীর অপর পাড়ে স্থাপন করা হবে। বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই তোরণটি তৈরি করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্গাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, এটি আমেরিকান স্থাপত্যের অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবে গণ্য হবে, যা আর্লিংটন সিমেট্রির ইতিহাস ও গুরুত্বকে সম্মান জানাবে। হোয়াইট হাউসের ক্যাম্পাস, লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এবং কেনেডি সেন্টারে ব্যাপক পরিবর্তনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রকল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর ত্রিমাত্রিক নকশা প্রদর্শন করেছেন।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে ডেমোক্র্যাট, বিভিন্ন সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠী এবং ভেটেরানদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, লিংকন মেমোরিয়ালের দ্বিগুণেরও বেশি উচ্চতার এই তোরণটি ওয়াশিংটনের প্রধান স্মৃতিস্তম্ভ ও আর্লিংটন জাতীয় সমাধির মধ্যবর্তী দৃশ্যপটকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের সন্নিকটে এর অবস্থান নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেটেরানদের একটি গোষ্ঠী এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, যেখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে এই তোরণ নির্মাণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কংগ্রেসের যথাযথ অনুমোদন নেই। বর্তমানে মামলাটি ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন এবং বিচার বিভাগ মামলাটি খারিজ করার জন্য আবেদন করেছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস গত মাসে স্বীকার করেছে যে, এই প্রকল্পটির প্রভাবে ল্যান্ডস্কেপের ওপর কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তবে সংস্থাটির দাবি, যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে মেমোরিয়াল সার্কেল সংরক্ষণগত দিক থেকে সংবেদনশীল, সেই একই বৈশিষ্ট্যগুলো এই স্থাপনাটির জন্য ঐতিহাসিকভাবে উপযুক্ত স্থান হিসেবে একে চিহ্নিত করে।
ইতিমধ্যে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন দুটি প্যানেল এই প্রকল্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইউ.এস. কমিশন অফ ফাইন আর্টস মে মাসে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে এবং ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন জুলাই মাসে কিছু পরিবর্তনের শর্তে প্রাথমিক অনুমোদন প্রদান করেছে। এছাড়া ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) প্রকল্পটির কারণে আকাশসীমায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা নিয়ে গবেষণা করছে। পূর্বের একটি গবেষণায় এফএএ জানিয়েছিল যে, এটি বিমানবন্দরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে না, তবে নিরাপত্তার খাতিরে তোরণের শীর্ষে লাল রঙের বাধা নির্দেশক বাতি বসাতে হবে।
September 3, 2026 / 5:22 PM EDT / CBS News

