মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে নিউইয়র্কে আসছেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের সঙ্গে একগুচ্ছ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। জানা গেছে, প্রায় ১৩০ জন রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমানে নিউইয়র্কে সমবেত হয়েছেন, যেখানে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থায় মার্কিন অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ার পর এই অধিবেশনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোমবার বিকেলে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প টাওয়ারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর মঙ্গলবার সকালে তিনি সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট তার প্রশাসনের মাধ্যমে বিশ্বের জটিল সমস্যাগুলো কীভাবে সরাসরি মোকাবিলা করেছেন, তা তুলে ধরবেন। এছাড়া ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেই গুরুত্বের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসবে।
কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরান ইস্যু। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসি (GCC) নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি শীর্ষ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি কাউন্সিলের সম্মানে একটি অভ্যর্থনার আয়োজন করবেন। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই দিনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাচির সঙ্গেও আলাদা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই হবে ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি বৈঠক। পাশাপাশি, এই সম্মেলনের ফাঁকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদির সঙ্গেও ট্রাম্পের একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

