আগস্ট মাসটি আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ একটি সময় হতে যাচ্ছে, কারণ এই মাসে তারা দুটি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছেন। নাসা জানিয়েছে, সাধারণত বছরে চার থেকে সাতটি গ্রহণ ঘটে থাকে। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদের বিশেষ অবস্থানের কারণে এই গ্রহণগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়, যাকে বলা হয় 'গ্রহণ মৌসুম'। আর্থস্কাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরে দুই থেকে পাঁচবার সূর্যগ্রহণ এবং শূন্য থেকে তিনবার চন্দ্রগ্রহণ হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বশেষ গ্রহণ মৌসুমের দেখা মিলেছিল।
সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন স্থান থেকে এর আংশিক রূপ দেখা যাবে। নাসা জানিয়েছে, আলাস্কা থেকে নর্থ ক্যারোলিনা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশ, কানাডার অধিকাংশ এলাকা, ইউরোপের বিশাল অংশ এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার আকাশ থেকে এই আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগরের কিছু অংশ এবং স্পেন ও পর্তুগালের ছোট একটি অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করবে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথে থাকা দর্শকদের জন্য চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে, ফলে আকাশ গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে যাবে এবং সূর্যের করোনা দৃশ্যমান হবে। এসময় তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে এবং আকাশ থেকে নক্ষত্র বা গ্রহ দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো কখনোই নিরাপদ নয়। আমেরিকান অপটোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, যথাযথ চোখের সুরক্ষা ছাড়া সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই 'এক্লিপস ব্লাইন্ডনেস' বা স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। গ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ চশমা কেনার সময় অবশ্যই আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি এবং নাসা কর্তৃক অনুমোদিত কি না তা যাচাই করতে হবে। চশমায় অবশ্যই 'ISO' (ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন) আইকন এবং ১২৩১২-২ রেফারেন্স নম্বর থাকতে হবে। যদি মেঘলা আকাশ বা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কেউ এই মহাজাগতিক দৃশ্য সরাসরি দেখতে না পারেন, তবে নাসা তাদের লাইভ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ১২ আগস্ট দুপুর ১টা ১৫ মিনিট (EDT) থেকে সূর্যগ্রহণের সরাসরি সম্প্রচার দেখাবে।
সূর্যগ্রহণের পাশাপাশি আগস্ট মাসের ২৭-২৮ তারিখে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে, যা পুরো যুক্তরাষ্ট্র থেকে দৃশ্যমান হবে। নাসা জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে এটিই হবে আমেরিকার জন্য দৃশ্যমান প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। টাইমঅ্যান্ডডেট-এর তথ্যমতে, এই চন্দ্রগ্রহণটি মোট ৫ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট স্থায়ী হবে এবং এর অন্ধকারতম পর্যায় বা উমব্রাল ফেজ স্থায়ী হবে ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিট।
চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ পুরোপুরি সারিবদ্ধ না থাকায় পৃথিবীর ছায়ার একটি অংশ চাঁদের ওপর পড়ে, যা চাঁদকে লালচে আভা দেয়। এই পর্যায়ে চাঁদের প্রায় ৯৬.২ শতাংশ অংশ ছায়ায় ঢাকা থাকবে। টাইমঅ্যান্ডডেট-এর তথ্য অনুযায়ী, এই মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় চাঁদের বেশিরভাগ অংশই ঢাকা পড়ে এবং কেবল একটি সরু অংশ ছায়ার বাইরে থাকে, যা চন্দ্রপৃষ্ঠে এক অদ্ভুত লাল আভা তৈরি করে।

