যুক্তরাজ্যের এক ফিউনারেল ডিরেক্টরকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার এই রায় ঘোষণার সময় বিচারক তার বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর অভিযোগগুলো শোনেন। দণ্ডিত ব্যক্তি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর কাছে তাদের প্রিয়জনের ভুল চিতাভস্ম হস্তান্তর করেছিলেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাসের পর মাস মৃতদেহ আটকে রাখা এবং স্মরণ সভায় সংগৃহীত দাতব্য অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জ্যাসমিন বেভারলি নামের এক মা জানান, ২০২২ সালের ১৩ মে তার সন্তান সানি মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ঘটনার এক বছর পর তদন্তকারীরা ফিউনারেল ডিরেক্টরের অফিসের মেঝেতে একটি বাদামী কাগজের ব্যাগের ভেতরে সানির চিতাভস্ম খুঁজে পান। অথচ এর আগে ওই ডিরেক্টর বেভারলিকে একটি ছোট নীল রঙের কফিনে চিতাভস্ম দেওয়ার দাবি করেছিলেন। ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বেভারলি বলেন, এই তথ্য জানার পর তার মানসিক ক্ষত আবার নতুন করে জেগে ওঠে, যা তাকে চরম অস্থিরতা ও বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়।
পুলিশি অভিযানের সময় ফিউনারেল হোমের ভেতর থেকে এমন প্রায় ৫০টি পরিবারকে শনাক্ত করা হয়, যাদের ভুল চিতাভস্ম দেওয়া হয়েছিল। অভিযানের সময় পুলিশ সেখানে নাম লেখা একাধিক কলস ও প্যাকেজিং খুঁজে পায়।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মোট ১৭২ জন মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৬২ হাজার পাউন্ড (৭ লাখ ৫৫ হাজার ডলার) প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে ভুয়া ফিউনারেল প্ল্যান এবং মৃতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থও রয়েছে, যা তিনি সংশ্লিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠানে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অ্যারিজোনায় ছুটিতে থাকাকালীন অন্য একটি ফিউনারেল ফার্মকে মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে সহায়তার অনুরোধ জানান। তখন তার ফিউনারেল হোমের এক কর্মী অন্য ফার্মের পরিচালকদের জানান যে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে অনেক মৃতদেহ রাখা আছে। এরপর পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে এক ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, কোল্ড স্টোরেজের র্যাকে পচনশীল অবস্থায় অনেক মৃতদেহ পাওয়া যায় এবং একটি মৃতদেহ মেঝেতে স্ট্রেচারের ওপর নগ্ন অবস্থায় পড়ে ছিল।

