রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, ইউক্রেনের একটি ড্রোন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। শনিবার রোসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানান, ড্রোনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি রিঅ্যাক্টর ইউনিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গ্যালারিতে আঘাত করেছে। এই গ্যালারিটি মূলত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়।
আলেক্সি লিখাচেভ আরও জানান, সৌভাগ্যবশত হামলায় কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। ড্রোনটি ৩ নম্বর রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের মাত্র কয়েক মিটার দূরে আঘাত হেনেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় বাহিনী বিদ্যুৎকেন্দ্রের শুকনো পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলার চেষ্টা করেছিল।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে লিখাচেভ জানান, বর্তমানে কেন্দ্রটি মাত্র একটি ৩৩০-কিলোভোল্ট ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এর আগে রাশিয়ার কর্মীরা জুনে একটি দ্বিতীয় লাইন মেরামত করলেও সেটি পুনরায় সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের আবাসস্থল এনেরহোদার শহরটিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার ড্রোন ও আর্টিলারি হামলার শিকার হচ্ছে, যার ফলে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। লিখাচেভের তথ্যমতে, শুক্রবার ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং এপ্রিলের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) কড়া সমালোচনা করেছেন লিখাচেভ। তিনি সংস্থাটির বিরুদ্ধে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপর্যাপ্ত প্রচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে, আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির এনেরহোদার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই কেন্দ্রটিকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছে। আইএইএ বারবার সতর্ক করেছে যে, পারমাণবিক কেন্দ্রের চারপাশে সামরিক তৎপরতা গুরুতর নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে এবং ২০২২ সাল থেকে সংস্থাটি সেখানে একটি পর্যবেক্ষণ মিশন পরিচালনা করছে।

