মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার আরব সাগরে মোতায়েনকৃত রণতরি ইউএসএস লিংকন পরিদর্শন করেছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার শেষ হওয়া ১০ দিনের এক আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে তিনি এই পরিদর্শন সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা এই বিমানবাহী রণতরিটিতে বর্তমানে সরবরাহ এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইউএসএস লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের বিষয়টি। এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে রণতরিটি সমুদ্রে বিরতিহীনভাবে ২৪০ দিনেরও বেশি সময় অতিবাহিত করেছে, যা একটি রেকর্ড।
ইউএসএস লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপ সম্পর্কে অ্যাডমিরাল কুপার শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আধুনিক যুগের অন্যতম তীব্র এবং তাৎপর্যপূর্ণ সামরিক মোতায়েন হিসেবে ইতিহাস এই অভিযানকে স্মরণ রাখবে। পাঁচ হাজারেরও বেশি নাবিক ও মেরিন সেনা নিয়ে গঠিত এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী মোতায়েন রণতরি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, অ্যাডমিরাল কুপার এই সফরে বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ করেছেন। এসব দেশে তিনি বেসামরিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে শনিবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো দুটি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। গত জুনে ইসরায়েল এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আনসার গ্রামের একটি বাড়িতে হামলায় সাতজন এবং দেইর আল-জাহরানি গ্রামে অপর এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার সকালে দাবি করেছে, দেইর আল-জাহরানির হামলায় আবু হাসান আলা নামে হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন, যিনি ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর আগে আনসার গ্রামের হামলায় আলী সামির আল-হাজ হাসান নামে হিজবুল্লাহর এলিট রাদওয়ান ফোর্স ইউনিটের এক ব্যাটালিয়ন কমান্ডার নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইসরায়েল। দেশটির সামরিক দাবি, হাজ হাসানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে থাকলেও তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি এই হামলার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে দাবি করা হয়েছে, হিজবুল্লাহ লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, কাতারের সশস্ত্র বাহিনী মার্চ মাসে নিখোঁজ হওয়া তিন ইরানি পাইলটকে আটক করেছে বলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের কমিটি দাবি করেছে। তবে কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের কমিটির কমান্ডার কাতারকে ইরানি বিমান বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তদন্তের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, পাইলটদের বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং তাদের উদ্ধারকারী দল একজনের দেহাবশেষ খুঁজে পেয়েছে।

