নর্থ ক্যারোলিনার কিংস মাউন্টেনে ১,০০০ একরের বেশি জমিতে সয়াবিন, ভুট্টা, গম ও গবাদি পশু পালন করেন ৫২ বছর বয়সী ম্যাট বেল। ৩৪ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা বেল জানান, গত এক বছরের মতো দুশ্চিন্তা ও চাপের মুখে তিনি আগে কখনো পড়েননি। জ্বালানি, সার ও কৃষি সরঞ্জামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তার খামার এখন চরম সংকটের মুখে। অনেক কৃষকই চলতি মৌসুম শেষে হাল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বেল তার ফসলি জমির বিন্যাসে পরিবর্তন এনেছেন এবং যন্ত্রপাতির আয়ু বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তার সন্তানরা খামারে কুমড়া বাগান ও খড়ের রাইডের ব্যবস্থা করে আয়ের নতুন পথ তৈরির চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাতেও ক্রমবর্ধমান খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বেল বলেন, 'আমরা সম্ভাব্য সব খরচ ছেঁটে ফেলেছি, কিন্তু এখন আর কমানোর মতো কিছু নেই। জ্বালানি ও সার ছাড়া কৃষি কাজ চালানো অসম্ভব।'
বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই অস্থিরতার পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার বড় ভূমিকা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধ এবং লোহিত সাগরে সৌদি অবকাঠামোতে ইরানি প্রক্সি বাহিনীর হামলার কারণে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগারের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়েছে। এএএ-এর তথ্যমতে, দেশজুড়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬.৪০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নর্থ ক্যারোলিনায় ডিজেল প্রতি গ্যালন ৬.১৯ ডলারে রেকর্ড গড়েছে। বেল জানান, তার কম্বাইন মেশিনটি চালাতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ডলারের ডিজেল প্রয়োজন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আগস্ট মাসেই তার বার্ষিক ৩৫,০০০ ডলারের জ্বালানি বাজেট শেষ হয়ে গেছে এবং বছরের শেষে এই খরচ ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
কৃষক বেলের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিও তার ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সয়াবিনের ওপর চীনের শুল্ক আরোপের ফলে বাজার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ১০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বেল বলেন, 'সার, জ্বালানি, রাসায়নিক, বীজ, যন্ত্রাংশ—আমরা যা কিছু স্পর্শ করছি, সবকিছুর দামই বেড়েছে।'
শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি সমর্থন করলেও এখন বেল মনে করছেন, প্রশাসন কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছিল কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।' সরকারি বেইলআউট কর্মসূচিকে তিনি যৎসামান্য বলে অভিহিত করেন। যদিও তিনি রিপাবলিকান সমর্থক, তবুও আগামী নির্বাচনে তিনি 'স্প্লিট টিকিট' বা ভিন্ন দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। বেলের ভাষায়, 'আমরা অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছি এবং আমাদের সামনে সুযোগ ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি এমন যে, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।'

