যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাশিয়ার ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে একটি বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অব ২০২৬’ (H.R. 5334) বিলটি উচ্চকক্ষে পাস হয়। আইনটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের সমর্থন সহজেই নিশ্চিত হয়েছে। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়েছে।
প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ছিল এই বিলটি। গত মাসে সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যখন সিনেটর গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, তখন বেশ কয়েকজন সিনেটরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।
এই আইনটি কার্যকর হলে রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা প্রদানকারী পক্ষগুলোর ওপর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, অলিগার্ক, তাদের পরিবারের সদস্য, বিদেশি ব্যক্তি এবং রাশিয়ার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিলটিতে নতুন করে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর আওতায় যেসব দেশ রাশিয়ার অধিকাংশ তেল বা গ্যাস আমদানি করে এবং রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করে, তাদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট লক্ষ্যভেদী শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। এছাড়া ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতে তহবিল প্রবাহ ঠেকাতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখার বিধানও এতে যুক্ত করা হয়েছে।
সিনেটে বিলটি পাসের ঘটনায় ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি একে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন, এই ঐতিহাসিক আইনটি আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী প্রমাণ। তিনি মার্কিন সিনেট সদস্যদের এই নেতৃত্ব এবং ইউক্রেনের প্রতি তাদের অটল সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, এর মাধ্যমে টেকসই শান্তি আরও এক ধাপ এগিয়ে এল।
সিনেটের ভোটাভুটিতে ১১ জন সিনেটর বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট লিসা ব্লান্ট রচেস্টার, ম্যাগি হাসান, মেজি হিরোনো, এড মার্কি, জন ওসফ, অ্যালেক্স প্যাডিলা, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, পিটার ওয়েলচ ও রন ওয়াইডেন এবং রিপাবলিকান র্যান্ড পল রয়েছেন। এছাড়া রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, সিনথিয়া লুমিশ এবং মিচ ম্যাককনেল ভোটদানে বিরত ছিলেন।

