যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান গভর্নর স্পেন্সার কক্স দেশের রাজনৈতিক বিভাজন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঋণ এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত তার নতুন বই ‘অফ র্যাম্প: হাউ টু বি আ পিসমেকার ইন অ্যান এজ অব কনটেম্পট’-এর প্রচারণায় অংশ নিয়ে ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক উইজিয়া জিয়াংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কথা বলেন গভর্নর কক্স। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের এআই নিয়ন্ত্রণে তাড়াহুড়ো না করার বক্তব্যের বিরোধিতা করে কক্স বলেন, এই প্রযুক্তির সুরক্ষায় ফেডারেল সরকারের আরও অনেক বড় ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি সাম্প্রতিক ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কক্সের মতে, যারা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সংকটে কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তা ও ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি একে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটদান (মেইল-ইন ব্যালট) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ। এই বিষয়ে ইউটার অবস্থান ব্যাখ্যা করে গভর্নর কক্স জানান, তার অঙ্গরাজ্যে গত জুনের প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউটাতে গত এক দশক ধরে অত্যন্ত নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ভোটদান প্রক্রিয়া গড়ে তোলা হয়েছে। নতুন কোনো নিয়ম বা আদালতের সিদ্ধান্ত যা-ই আসুক না কেন, ইউটা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং যোগ্য সব নাগরিক যেন ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম ৪ ডলারের ওপরে থাকা, ৩.৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এবং ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি ০.১% হ্রাস পাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গভর্নর কক্স। সম্প্রতি এক কনভেনশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে কক্স বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে তিনি আবাসন খাতের সংকট দূর করতে বাইডেন প্রশাসনের গৃহায়ণ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। কক্সের মতে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য বাড়ি কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যা তাদের পরিবার গঠনের সিদ্ধান্তকেও বাধাগ্রস্ত করছে। এই সমস্যা সমাধানে তিনি ‘অনুমোদন প্রক্রিয়া সংস্কার’ (পারমিটিং রিফর্ম)-এর ওপর জোর দেন, যে বিষয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের গভর্নররা একমত।
নির্বাচনে জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫,০০০ ডলার করে ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার ট্রাম্পের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তীব্র সমালোচনা করেছেন এই রাজকোষীয় রক্ষণশীল (ফিসকাল কনজারভেটিভ) গভর্নর। দেশের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের নগদ অর্থ বিতরণ অর্থনীতিতে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ডেকে আনবে। কোভিড মহামারির সময় দেওয়া সরকারি তহবিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই ভুলের কারণেই আজ দেশকে এই মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের ‘সমাজতান্ত্রিক’ নীতির কারণে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও কদর্য ভাষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন কক্স। ইউটাতে রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গত ১০ বছরে কংগ্রেস সদস্যদের ওপর হুমকির পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্স কর্তৃক ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ বা ‘ঘৃণার দল’ বলে আক্রমণ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে আবেগপূর্ণ বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু একে অপরের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে। আমেরিকানদের এই নোংরা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

