মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তারা ট্রাম্পকে এই সতর্কবার্তা দেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পকে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ কমে আসছে। তিনি ভ্যান্সের সঙ্গে একমত হয়ে ট্রাম্পকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হলে তাতে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং এর ফলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে আরও জানান যে, সড়ক, সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করা হলে লাখ লাখ ইরানি বিদ্যুৎ ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়বে। এছাড়া, এই সংঘাতের ফলে বড় ধরনের শরণার্থী সংকট তৈরি হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোতে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এলাকায় গত দুই সপ্তাহের তীব্র হামলায় ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কুপার উল্লেখ করেন, তালিকাভুক্ত লক্ষ্যবস্তুগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি যুক্তি দেন যে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপান্তর না ঘটিয়ে এই হামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য নেই। মূলত এই সামরিক মূল্যায়নের প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প শুক্রবার সব ধরনের অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
জেনারেল কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সতর্ক করে বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মার্কিন কর্মী এবং আঞ্চলিক মিত্ররা পাল্টা হামলার মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারে। এদিকে, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা অব্যাহত বোমা হামলার পর টানা দুই রাত কোনো ধরনের মার্কিন বা ইরানি হামলার খবর পাওয়া যায়নি। আনাতোলির তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত ইরানজুড়ে কোনো বিস্ফোরণ বা মার্কিন বিমান হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কিছুটা জায়গা রাখছেন। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধবিরতি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমেই সংঘাত অবসানে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছিল।

