ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরে তার সহকারী ন্যাটালি হার্পের উপস্থিতি এবং তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ দলের অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শনিবার সকালে গলফ খেলতে, দেশটির নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে এবং রাজনৈতিক মন্তব্য করতে ডাবলিন পৌঁছান ট্রাম্প। তার এই সফরে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প সঙ্গে না গেলেও ("তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন," ট্রাম্প বলেন), তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকারী ন্যাটালি হার্প সার্বক্ষণিক পাশে ছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী ন্যাটালি হার্পকে নিয়ে গত মাসেও বেশ শোরগোল হয়েছিল। ডেমোক্রেটিক সিনেটর জন অসফ রসিকতা করে বলেছিলেন যে, ট্রাম্প নিজের কাজ করতে চান না, তিনি কেবল "নিজের বলরুম তৈরি করতে এবং ন্যাটালির সাথে ভ্রমণ করতে" চান। ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র ও আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার কারণে বিষয়টি গণমাধ্যমে বড় আকার ধারণ করে। হার্পকে তার কাজের ধরনের জন্য "হিউম্যান প্রিন্টার" বা "মানুষরূপী প্রিন্টার" নামে ডাকা হয়, কারণ ট্রাম্পকে খুশি করার মতো ইতিবাচক খবরগুলোর প্রিন্ট কপি হাতে ধরিয়ে দিতে তিনি সবসময় একটি পোর্টেবল প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের পেছনে পেছনে ঘোরেন। সম্প্রতি জানা গেছে, ট্রাম্প তাকে এবং আরও দুজন নারী সহকারীকে ছুটি কাটানোর জন্য ৪৫,০০০ ডলার (৩৩,০০০ পাউন্ড) নগদ উপহার দিয়েছেন।
আয়ারল্যান্ডে হার্পের এই সফরটি সাধারণ একটি ঘটনা হতে পারত, কিন্তু হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। শনিবার স্বাধীন সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হার্পের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, "দেখুন আয়ারল্যান্ড সফরে কে এসেছেন! #ন্যাটালিরসাথেভ্রমণ।" এই পোস্টে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউসের 'র্যাপিড রেসপন্স ৪৭' এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে জবাব দেওয়া হয়। তারা লেখে, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলেই তার কর্মীদের নিয়ে ভ্রমণ করেন। অন্যদিকে অ্যারন হলেন একজন অসুস্থ, বিভ্রান্ত বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ (যার বয়স ৪০-এর কোঠায়) যিনি কিবোর্ডের পেছনে বসে এই ধরনের নোংরা পোস্ট করেন।"
এই ধরনের অপেশাদার প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের জনসংযোগ দলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রুপারের টুইটটি এড়িয়ে যাওয়াই যেখানে বুদ্ধিমানের কাজ ছিল, সেখানে তারা এটিকে আরও বড় করে তুলে ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে মানুষকে আবার কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি কি ইরান, এপস্টাইন ফাইল বা অর্থনীতি থেকে মানুষের মনোযোগ সরানোর কোনো কৌশল, নাকি ট্রাম্পের চারপাশে অযোগ্য লোকজনের ভিড় জমেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কলামিস্ট আরওয়া মাহদাবি।

